পুলক: স্মৃতির সঙ্গে আলাপ ছিল প্রশান্তিদায়ক ও উপভোগ্য
প্রথমে স্মৃতি রানী বিশ্বাসকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
প্রথম দেখায় মনে হলো উনি একজন শিক্ষিত, পরিশ্রমী ও ইতিবাচক মানুষ।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
'হাই-হ্যালো' এবং পরস্পরের পরিচয় বিনিময়ের মাধ্যমে আলাপ শুরু হয়।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
পরিচয় পর্বে যখন জানতে পারলাম স্মৃতি আমার বিভাগেরই শিক্ষার্থী, তখন আমাদের আলোচনা বিভাগ কেন্দ্রিক আবর্তিত হতে শুরু করে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণা, বিভাগের বর্তমান অবস্থা, উভয়ের পছন্দ-অপছন্দ, বই পড়া, সিনেমা, ভ্রমণ এবং পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেশি কথা হয়েছে। এছাড়া প্রাত্যহিক জীবনযাপন, একাডেমিক লাইফ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।
[এখানে পড়ুন: খুলনায় বিস্ট্রো-সিতে হৃদ্যতা ও হৃদিকা]
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
স্মৃতির সাথে আলাপচারিতায় মনে হয়েছে আমাদের চিন্তাভাবনা বেশ কাছাকাছি। মূল্যবোধ, জীবন নিয়ে লক্ষ্য এবং সমসাময়িক দেশ ও বিশ্বপরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে একটা সমমনা মনোভাব লক্ষ করেছি।
স্মৃতির কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
সত্যি বলতে স্মৃতিকে খুব ইতিবাচক একজন মানুষ মনে হয়েছে, যিনি অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এছাড়া তাকে বেশ আশাবাদী ও উদ্যমী মনে হয়েছে।
স্মৃতির কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
পুরো আলাপচারিতায় স্মৃতি খুবই আন্তরিক ছিল। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অপরকে ছোট করে—এমন কোনো মন্তব্য সে করেনি। ফলে বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তারা কোথায় থাকেন এবং বন্ধুদের সাথে কীভাবে সময় কাটে—এসব বিষয়ই মূলত প্রাধান্য পেয়েছে।
আপনার বন্ধুদের সাথে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
সেটা আসলে নির্ভর করবে পরবর্তীতে সরাসরি দেখা হয় কি না তার ওপর। আবার দেখা হলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। তবে বন্ধুদের সাথে যে স্মৃতির বিষয়ে কথা হবে, তা নিশ্চিত।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও মোটাদাগে তাকে বেশ আশাবাদী মানুষ বলেই মনে হয়েছে।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ, মুঠোফোন নম্বর বিনিময় করেছি। একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় আশা করি আবার যোগাযোগ হবে।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
ফেসবুক ব্যবহারে তাকে কিছুটা নিরুৎসাহী মনে হলো, তাই ফেসবুকে যুক্ত হওয়া হয়নি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
আমি মনে করি আমাদের পুনরায় দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয়েছে, ফলে যোগাযোগ করা সহজ। তাছাড়া একই বিভাগের হওয়ায় বিভিন্ন উৎসব বা পুনর্মিলনীতে দেখা হয়ে যেতে পারে।
স্মৃতিকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
ইতিবাচক ও উদ্যমী মানুষ।
আলাপটিকে আপনি ১০ নম্বরে কত দেবেন?
এটি অত্যন্ত প্রশান্তিদায়ক, উপভোগ্য ও স্বতঃস্ফূর্ত একটি আলাপচারিতা ছিল। তাই আমি এই আলাপকে ১০-এ ১০ দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
অপরিচিত মানুষের সাথে হঠাৎ আলাপচারিতা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য। তবে সব আলাপ সবসময় মধুর হয় না; অনেক সময় মতানৈক্য, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অসহিষ্ণুতা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ লক্ষ করা যায়। কিন্তু স্মৃতির সাথে এই আলাপটি আমাকে বেশ ইতিবাচক অনুভূতির যোগান দিয়েছে। মানসিক প্রশান্তির জন্য জীবনে এমন সুন্দর আলাপচারিতা সত্যিই প্রয়োজন।
স্মৃতি: তিনি আমাকে ‘গুজারিশ’ সিনেমাটি দেখার পরামর্শ দিয়েছেন
প্রথমে পুলক কুমার দেব-কে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
প্রথম দেখাতেই তাকে বেশ শান্তশিষ্ট ও নম্র স্বভাবের মানুষ মনে হয়েছিল। 'ফার্স্ট ইমপ্রেশন' বলতে যা বোঝায়, তাতে তাকে খুব সহজ-সরল মানুষ বলে মনে হলো। পরবর্তীতে তার বিনম্র বাচনভঙ্গিতে সেই স্বভাবটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
শুরুতেই আমরা কে কোন সেশনের শিক্ষার্থী, তা নিয়ে কথা বলি। আমরা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী। তাই তিনি আমার সেশন ও ব্যাচ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সেশনের মাধ্যমেই তো খুব সহজে বয়স আন্দাজ করে নেওয়া যায়—বিষয়টি বয়স জানার বেশ অভিনব একটি কৌশল ছিল!
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় আলোচনার শুরুতেই বিভাগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সংস্কৃতি (যেমন: নাচ, গান ইত্যাদি) উঠে আসে। নিজেদের পারিবারিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছি।
সিনেমা নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ কথা হয়; তিনি আমাকে ‘গুজারিশ’ সিনেমাটি দেখার পরামর্শ দেন। ধর্মীয় উৎসব নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি যেহেতু শ্রীমঙ্গলে থাকেন, তাই সেখানকার আবহের সাথে ঢাকার পরিবেশের একটি সুন্দর তুলনামূলক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছি।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের অমিল খুব একটা ছিল না, কেবল সিনেমা ও আইসক্রিমের পছন্দের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য ছিল। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা বেশ কাছাকাছি ছিল।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
ওনার শান্তশিষ্ট স্বভাবটি আমার খুব ভালো লেগেছে। তাছাড়া তিনি শিক্ষকতা পেশা পছন্দ করেন এবং সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে—বিষয়গুলো বেশ প্রশংসনীয়।
পুলকের কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
না, আমি মোটেও বিব্রত হইনি। তবে তিনি যখন আইসক্রিম খাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন কিছুটা সংকোচ বোধ করছিলাম।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
হ্যাঁ, বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে কাটানো সময় নিয়ে তিনি বেশ কিছু গল্প শোনালেন এবং আমার বন্ধুদের সম্পর্কেও জানতে চাইলেন। এছাড়া পরিবারে সদস্য সংখ্যা কতজন এবং কে কী করছেন, তা নিয়েও সংক্ষিপ্ত কথা হয়েছে।
আপনার বন্ধুদের সাথে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
[এখানে পড়ুন: শেরপুর নিউমার্কেটে ইকবাল ও স্বর্ণা]
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
তার মধ্যে প্রবল আশাবাদ লক্ষ্য করেছি। ওনার ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও গুছানো কথাবার্তা আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছে।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ, আমাদের নম্বর বিনিময় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে কথা হলেও আইডি বা অ্যাকাউন্ট আদান-প্রদান হয়নি।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
না, ফেসবুকে যুক্ত হওয়া হয়নি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
শতভাগ সম্ভাবনা আছে! একই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় জগন্নাথ হলের কোনো পূজা বা বিভাগের অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে আগে থেকে পরিকল্পনা করে আলাদাভাবে দেখা হবে কি না, তা অনিশ্চিত।
পুলক কুমার দেব-কে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
শান্তশিষ্ট, সংস্কৃতিমনা ও আশাবাদী।
আলাপটিকে আপনি ১০ নম্বরে কত দেবেন? আমি ১০-এ ৮ দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
কথা বলি বিষয়টাই খুব আকর্ষনীয়।
[আরও পড়ুন: ভবেরচরে সুস্মিতা ও ইফতি]