শুধু দুর্দান্ত স্বাদের জন্য নয়, রোগীর পথ্য হিসাবেও বাঙালি বাড়িতে মাগুর মাছের পাতলা ঝোল খুবই চালু একটি পদ। ভালো করে দেখে কিনতে পারলে, ভালো মাগুর মাছ খাওয়ার ভালো সময় চলছে এখন। গত মাসের শেষের দিকের কথা। সেদিন গরমের খুব বাড়াবাড়ি ছিল। দুপুরের খাবার কী হতে পারে ভাবছিলাম। কয়দিন ধরে এই গরমে মাগুরের ঝোল রান্নার কথা মনে হচ্ছিল। এটা মাথায় রেখে আগের দিন বাজার থেকে কাঁচা পেঁপে কিনে এনেছিলাম। মাগুর মাছ আগে থেকেই জোগাড় করা ছিল। আর আলু কোন বাড়িতে না থাকে! সুতরাং রান্না করে নিলাম আলু পেঁপে দিয়ে মাগুর মাছের পাতলা ঝোল।
আজ জীবনজয়ীর পাঠকদের জন্য সেদিনের মাগুর রান্নার প্রণালি দেওয়া হলো।
যা লাগবে: মাগুর মাছ মাঝারি সাইজের ৪টি, পেঁপে সাতশ-আটশ গ্রামের একটি, আলু ৪/৫টি, হলুদ গুঁড়ো ২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়ো দেড় চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, বিলেতি ধনেপাতা ৪/৫টি, তেল ও লবণ প্রয়োজনমতো।
ফোড়নের জন্য: জিরা ও মেথি এক চিমটি করে।
প্রণালি:
প্রথমে মাছ কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। পেঁপে এবং আলু লম্বা করে একটু বড় সাইজে কেটে নিন। ১ চামচ হলুদ, আধা চামচ মরিচ, ধনে এবং জিরা সবটুকু কুসুম গরম জলে গুলে একটি ঘন পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।
এবার বড় কাজ। মাগুর তদারকির পালা। চুলায় প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো তেল গরম করে লবণ এবং বাকি হলুদ, মরিচ গুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে মাছের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে নিতে হবে।
এরপর কড়াইয়ে তেল গরম করে জিরা, মেথি ফোড়ন দিয়ে পেঁপে এবং আলু ছেড়ে দিন। একটু নাড়াচাড়া করে লবণ, আদা ও কাঁচা মরিচ বাটা দিয়ে কষাতে হবে। চার-পাঁচ মিনিট নাড়াচাড়া করার পর, গুলিয়ে রাখা পেস্ট দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। এ পর্যায়ে ঢাকনা দিয়ে কষাতে হবে।
একটু খেয়াল করে থাকুন। মসলা ভাজা ভাজা হয়ে আলু-পেঁপের গায়ে লেগে গেলে, দুই-তিন কাপের মতো গরম পানি ঢেলে দিতে হবে। অথবা আপনি যে পরিমাণ ঝোল রাখতে চান, সে পরিমাণ পানি দিন। ঝোলের জন্য গরম পানি দিতে হবে। এটা ভুল করা যাবে না।
ঝোল-আলু-পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে মাছের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। এবার সবকিছু একসঙ্গে ফুটতে থাকুক কিছুক্ষণ। পেঁপে-আলু-মাছ সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না চলতে থাকবে।
ঝোল ঘন হয়ে আসলে লবণ চেখে দেখুন। ধনেপাতা ছড়িয়ে দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। হয়ে গেল মাগুর মাছের ঝোল। এই পদটি অবশ্যই গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন হবে।
(এখানে পড়ুন: মৈত্রী হলে গনরুমে আমাদের ফিস্টি)