রসিঘর

রানি ক্লিওপেট্রার রসনা-বিলাস


  • মেহেনাজ হাসান  |
  • প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩২
রানি ক্লিওপেট্রার রসনা-বিলাস
ছবি: এআই

রানি ক্লিওপেট্রা। অফিশিয়ালি বললে রানি সপ্তম ক্লিওপেট্রা। ইনি ছিলেন মিসরের টলেমি রাজবংশের রানি। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫১ থেকে ৩০ সাল পর্যন্ত মিসরের ফারাও ছিলেন। তাঁর পরে মিশর রোমানদের হাতে চলে যায়। ক্লিওপেট্রা তাঁর রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা, কূটনৈতিক জ্ঞান ও ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিশরের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন সবসময়। গ্রিক বংশজাত হলেও মিসরের ভাষা ও সংস্কৃতিকে তিনি একান্ত আপন করে নিয়েছিলেন। ক্লিওপেট্রা মিশরীয় রানি হিসাবেই প্রতিভাত হয়েছিলেন।

রাজনীতি, কূটনীতি, প্রেম, সৌন্দর্যচর্চা ছাড়াও রানি ক্লিওপেট্রার খাদ্যরুচি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফাইন ডাইনিং লাভার্স, সিলোন টুডে, ফুড রিপাবলিক এবং দ্য ক্লাসিক্যাল জার্নালে (১৯৫৭) বি. এল. উলম্যানের প্রবন্ধ ‘ক্লিওপেট্রাস পার্লস’ অবলম্বনে লিখিত জীবনজয়ী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব পড়ুন নিচে।

খাবার মানে শুধু পেটপুরে খাওয়া নয়; মিশরীয় রানি ক্লিওপেট্রার কাছে খাবার মানে ছিল সংস্কৃতির এক রাজকীয় বহিঃপ্রকাশ। প্রাচীন নথি ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে জানা যায়, ফারাওদের খাবার টেবিল ছিল রাজকীয় আয়োজন, ক্ষমতা, সম্পদ আর তৃপ্তির মিশেলে সাজানো এক ভোজনাগার। ইংরেজ মেমসাহেবদের মতো ব্ল্যাক কফি বা চা দিয়ে দিন শুরু হতো না মিশরের এই রানির।

ক্লিওপেট্রার প্রাতঃকালীন নাস্তায় থাকত এমার গমের চ্যাপ্টা রুটি, মধু, খেজুর, ডুমুর, আঙুর ও তরমুজ। সঙ্গে থাকত ছাগলের দুধ থেকে তৈরি নরম চিজ লাবনেহ। এছাড়া রানি সকালে পুদিনা ও ক্যামোমাইলের মতো ভেষজ দিয়ে তৈরি পানীয় পান করতেন, কখনো বা হালকা ওয়াইন।

এখানে পড়ুন: ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের প্রকৃত মালিক কে? 

দুপুরের প্রধান খাবারে রুটির পাশাপাশি মাছ খেতেন রানি। খোলা আগুনে বারবিকিউ স্টাইলে রসুন, জিরে আর ধনিয়া দিয়ে নীল নদের মাছ রোস্ট করে খেতে ভালোবাসতেন। ভাতে-মাছে বাঙালির মতো ক্লিওপেট্রারও মাছ পছন্দ ছিল! তবে পদ্মার ইলিশ নয়, ক্লিওপেট্রার পছন্দ ছিল ভূমধ্যসাগরের মুলেট মাছ আর ক্যাটফিশ।

মাংস তুলনামূলক কমই খেতেন দৈনন্দিন আহারে। তবে ভেড়া ও রাজহাঁস গুরুত্ব পেত খাবার টেবিলে। এসবের পাশাপাশি পরিবেশন করা হতো জলপাইয়ের তেল দিয়ে রান্না করা ডাল, শিম ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ও শস্য। সঙ্গে থাকত শসা, লিকস ও লেটুসের মতো তাজা সবজি। জলপাই, ডালিম ও গ্রিক স্টাইলের সালাদও শোভা পেত রানির প্লেটে।

সান্ধ্যকালীন স্ন্যাকস হিসেবে রানির সামনে পেশ হতো মধু দিয়ে বানানো পিঠা, বাদামে ভরপুর খেজুর আর ডুমুরের পেস্ট্রি।

রানির রাতের খাবারের পর্ব ছিল খুবই সাদামাটা ও স্বাস্থ্য-সচেতন। ফল দিয়ে তৈরি যবের এক বাটি পরিজই ছিল তাঁর রাতের খাবার।

এখানে পড়ুন: ইয়র্কশায়ার পুডিং উইথ চিকেন সসেজ 


ক্যাটাগরি: রসিঘর

         

  রেটিং: ৫

এই বিভাগের আরও পোস্ট

রানি ক্লিওপেট্রার রসনা-বিলাস

রানি ক্লিওপেট্রার রসনা-বিলাস

  • মেহেনাজ হাসান|
  •  ০১-১০-২০২৬
ক্যাটাগরি: রসিঘর

৫

আলু পেঁপে দিয়ে মাগুর মাছের ঝোল

আলু পেঁপে দিয়ে মাগুর মাছের ঝোল

  • শিখা বোস |
  •  ২৩-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: রসিঘর

৫

দ্য হাংরি ভয়েজার্সের বাছাই খাবার: এক

দ্য হাংরি ভয়েজার্সের বাছাই খাবার: এক

  • ইশরাত জাহান ও জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা|
  •  ১৬-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: রসিঘর

৫

রাজস্থানী মালাই ঘেওয়র

রাজস্থানী মালাই ঘেওয়র

  • অনন্যা উর্মি|
  •  ০১-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: রসিঘর

৪.১

কলার মোচার ঘন্ট ও বড়া

কলার মোচার ঘন্ট ও বড়া

  • অনন্যা উর্মি |
  •  ১৩-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: রসিঘর

৪.২