গত বছর জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা গিয়েছিল শেরপুর। গবেষণার কাজে একটি টিমের সঙ্গে। তখন পড়ন্ত দুপুর। স্থানীয় রেঁস্তোরায় খুব ভালো একটা দুপুরের খাবার সেরে স্বর্ণার টিমের লোকেরা স্থানীয় বন্ধুদের আমন্ত্রনে চা নিয়ে বসেছিল বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষে। সেখানে পরিচয় হয় ইশতিয়াক চৌধুরী ইকবালের সঙ্গে। ইকবাল স্থানীয় মানুষ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানান উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত। জীবনজয়ীর প্রস্তাবে কথা বলিতে অংশ নিতে রাজি হন ইকবাল। স্বর্ণা আগে থেকে কথা বলি জানতেন। কি কথা হয়েছিল তাদের মধ্যে?
ইকবালের মধ্যে নারীদের নিয়ে কোন গোঁড়ামি দেখেনি স্বর্ণা
প্রথমে ইশতিয়াক চৌধুরী ইকবালকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
ইকবাল ভাইকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি আমার চেয়ে অনেক লম্বা। তাই প্রথমেই জিজ্ঞেস করি, ‘ভাই, আপনার উচ্চতা কত?’
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
আলাপ শুরু হয়, তিনি বর্তমানে কোন পেশায় নিয়োজিত আছেন, এটা নিয়ে। আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনি কী করেন?’ তিনি একটা মজার উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘এই গরু পালি, মুরগি পালি।’ এটা একটা আইস-ব্রেকারের মতো ছিল।
কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
অনেক বিষয় নিয়েই ওনার সাথে কথা হয়। ওনার ঢাকা কলেজে রসায়নে পড়ার সময়ের কথা, ওনার সবচেয়ে কাছের তিন বন্ধুর কথা আর কীভাবে সেই সুন্দর সময়টা পার করে এসেছেন। ভাই আরও জানান, ২০১৫ সালে ওনার মা–বাবা ইন্তেকাল করেন। বই প্রকাশনীর অফিস ‘রিমিক’–এ ওনার পার্টটাইম জবের কথা বলেন। ওনার ব্যবসা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কীভাবে শুরু, বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও নানাবিধ কথা। আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করি, ‘রসায়নের ছাত্র থেকে ব্যবসার দিকে চলে এলেন, এটা কীভাবে?’ তিনি জানান, ‘আমার বাবা, দাদা ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন। তাই সেটার একটা রেশ রয়েই গেছে। যারপরনাই রাজনীতিতে না গেলেও ব্যবসার দিকে চলে এসেছি।’ তা ছাড়া ভাই ভ্রমণপ্রেমী মানুষ, সেটা নিয়েও কথা হয়।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের মিল বেশি ছিল।
কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
ইকবাল ভাই সহজ-সরল মনোভাবের মানুষ; এটা আমার ভালো লেগেছে। আমার একবারও মনেই হয়নি যে ওনার সাথে এই প্রথম কথা বলছি। সবচেয়ে বেশি যেটা আমার ভালো লেগেছে, তা হচ্ছে তিনি হুট করে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই।
ইশতিয়াক চৌধুরী ইকবালের কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
ইকবাল ভাইয়ের সাথে কথা বলে আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি তার কোনো কথা বা আচরণেই বিব্রত বোধ করিনি। ভাই আমার চেয়ে বয়সে বেশ খানিকটা বড় হলেও তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলে গেছেন। কখন যে ৪৫ মিনিট সময় পেরিয়ে গেছে, সেটা বুঝতেই পারিনি।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওনারা ৩ ভাইবোন, সবার বড় বোন, তারপর বড় ভাই, তিনি সবার ছোট। তিনি বর্তমানে বড় ভাই ও ভাবির সাথেই থাকেন। তবে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি তাঁর বাসা থেকে দুই মিনিটের হাঁটা দূরত্ব। ওনার বন্ধুরাও ওনার মতোই ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, সেটা জানান।
আপনার বন্ধুদের সাথে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
নিশ্চয়ই পরিচয় করিয়ে দেব।
ইকবালের মধ্যে আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ব্যবসা নিয়ে পরবর্তীকালে কী পরিকল্পনা, সে কথা বলেন। সেটা সফল করার জন্য বর্তমানে কী কী পরিকল্পনা অবলম্বন করছেন, সেটার ভিডিও দেখান, পরিকল্পনা বলেন। এ ছাড়া জীবন নিয়েও ওনার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবই দেখেছি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, তিনি একজন আশাবাদী মানুষ।
মোবাইল নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়েছে।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন কি?
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
আমার আবার কবে শেরপুর যাওয়া হবে জানিনা। তবে ইকবাল ভাই মাঝে মাঝে ঢাকায় আসেন। তাই দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ইশতিয়াক চৌধুরী ইকবালকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
ইকবাল ভাইকে বেশ ভালো লেগেছে। ওনার জীবনাদর্শ আধুনিক ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি ওনার মধ্যে কিছু নিয়েই, বিশেষ করে নারীদের নিয়ে কোনো প্রকার গোঁড়ামি দেখিনি, যা আমার ভালো লেগেছে।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
আমি ১০ এ ১০ দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
আমি ইকবাল ভাইকে জিজ্ঞেস করি, ‘ভাই, আপনার তো দাড়ি সাদা হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে করেন, দাওয়াত দেন আমাদের।’ জবাবে ভাই রসিকতা করে বলেন, ‘নাহ, বিয়ে, সে অনেক ঝক্কির ব্যাপার। কয়েক বছর আগে আমাদের এখানে একজন পীর সাহেব ছিলেন, কিন্তু তাকে উৎখাত করা হয়। তাই এখন বিয়েটা থাক, বরং চুল-দাড়ি লম্বা করি। যখন একদম সাদা হয়ে যাবে, তখন পীর সাহেব হয়ে যাব। ওনার কাজটা তখন আমিই করব আর ইনকাম করব।’
নির্বিকার ভঙ্গিমায় স্বর্ণাr কথা বলা ভালো লেগেছে ইকবালের
প্রথমে স্বর্ণাকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
স্বর্ণাকে দেখে মনে হয়েছে শান্ত প্রকৃতির মানুষ, তার চোখে অনেক জিজ্ঞাসা।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
শুরু হয় মূলত উচ্চতার প্রসঙ্গ দিয়ে। তারপর পেশা, পরিবার নিয়ে আলাপ চলতে থাকে।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
অনেক বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। তার মধ্যে পরিবার, পড়ালেখা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলোচনায় ছিল। স্বর্ণার ইচ্ছা উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যাওয়া। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোকে পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে ওনার মায়ের ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করার। সংসারের পাশাপাশি ওনার মা অনেক বছর পর পুনরায় পড়ালেখা শুরু করেছেন।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের অমিল তেমন একটা ছিল না। প্রায় সকল ক্ষেত্রে মিলই ছিল।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
স্বর্ণার সরলতা, নির্বিকার ভঙ্গিমায় কথা বলা ভালো লেগেছে। শিক্ষানুরাগী মনোভাবটাও উল্লেখ করার মতো।
স্বর্ণার কোনো বিষয়ে কি আপনি বিব্রত হয়েছিলেন?
নাহ, বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে প্রথম দেখাতেই আমার চুল–দাড়ি পাকার বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করায় কিঞ্চিৎ হকচকিয়ে গিয়েছিলাম।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি কথা হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব সব বিষয়েই হয়েছে। স্বর্ণা পরিবার সম্পর্কে বলেছেন, তবে বন্ধুবান্ধব নিয়ে তেমন একটা জানাশোনা হয়নি। ওনার পরিবারে সদস্য তিনজন। ওনার বাবা চাকরিজীবী, মা গৃহিণী। তিনি যখন ঢাকায় থাকেন না, তখন মা–বাবার সাথে ঝিনাইদহের বাড়িতে থাকেন।
আপনার বন্ধুদের সাথে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই। স্বর্ণা খুবই বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ।
আপনি স্বর্ণার মধ্যে আশাবাদী মনোভাব দেখলেন নাকি উল্টোটা?
যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে, স্বর্ণা বেশ আশাবাদী প্রকৃতির মানুষ।
মোবাইল নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হুম, নম্বর আদান-প্রদান হয়েছে।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
হ্যাঁ, হয়েছি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
ইনশা আল্লাহ। পৃথিবী যেহেতু গোল, যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে প্রকৃতি আবার দেখা করিয়ে দিতেই পারে। আবার পরিকল্পনা করেও দেখা হতে পারে। ব্যাটে-বলে সময মিলে গেলে আরকি।
স্বর্ণাকে কে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
স্বর্ণাকে যতটুকু দেখেছি, ভালো মানুষ মনে হয়েছে। স্বচ্ছ মনের অধিকারী। আমাদের আলাপচারিতায় ওনার অংশগ্রহণ আরও একটু বেশি থাকলে বর্ণনা করতে আরও সহজ হতো। এটাকে আমার ব্যর্থতা বলব আমি। কারণ, আমি তাকে হয়তো বলার সুযোগটা কম দিয়েছি। আমিই বেশি বলেছি। আধুনিক মননের সাথে ডিফেন্সিভ সামাজিক চিন্তার একটা ভালো সমন্বয় আছে ওনার মধ্যে।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
আমি ১০ এর মধ্যে ৮.৫ দেব। হয়তো কারণবশতই তিনি গল্পের মধ্যে প্রশ্নটাই বেশি করেছেন। এটা নিয়ে আমি দোষ দিচ্ছি না। তবে তার আরও একটু অংশগ্রহণ থাকলে বেশ ভালো হতো।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
বিশদভাবে বলাটা একটু মুশকিল। কারণ স্বর্ণার অংশগ্রহণ কম থাকাটা। তবে পরিবার বা আন্টিকে নিয়ে সাবলীলভাবে নির্দ্বিধায় কথা বলাটা ওনার সরলতারই পরিচয় দেয়, জিজ্ঞাসু দৃষ্টি কাজ করেছে তার মধ্যে। ওনার উচ্চতা চোখে পড়ার মতন। এককথায় স্বর্ণা সুন্দর মননের অধিকারী।