আব্দুল আলিম কোনো একটা কাজে গিয়েছিলেন রংপুরে। সেখানে পরিচয় হলো ওহিদুন নবী রিয়াজের সঙ্গে। সেদিন ছিল ৫ ডিসেম্বর ২০২৫। ‘জীবনজয়ী’র আহ্বানে দুজনে অংশ নিলেন “কথা বলি”তে। আলিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রিয়াজ রংপুরে রয়্যাল এনফিল্ডে কর্মরত আছেন।
আলিম: রিয়াজ ভাই খারাপ সময়েও আনন্দে থাকার কথা বলেছেন
প্রথমে ওহিদুন নবী রিয়াজকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
প্রথমে মনে হয়েছিল রিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলাপ হয়ে ওঠা কঠিন হবে। শুরুতে ওনাকে একটু চাপা স্বভাবের লাগছিল। কিন্তু আলাপ শুরু করার পর আমাদের আড্ডাটা এমন পর্যায়ে যায় যে এক টানে দেড় ঘণ্টা পার হয়ে যায়। রিয়াজ ভাই আমাকে আবারও আড্ডা দেওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
রিয়াজ ভাই আমার অনেক সিনিয়র। সৌজন্যমূলক পরিচয় দিয়েই আলাপ শুরু করি।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
ছোটবেলা, স্কুলজীবন, কলেজজীবন, ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে আবার জাগিয়ে শেয়ার করা, স্কুল পালানো, বন্ধুরা মিলে চায়ের আড্ডা, ছোটবেলার বিভিন্ন টিভি শো আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের মিলই বেশি ছিল।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
রিয়াজ ভাইয়ের কথা বলা ও জীবনযাপনের ধরন অনেক রোমাঞ্চকর। স্কুলজীবন থেকে তাঁর আনন্দ, পড়াশোনা এবং চিন্তাহীন জীবনযাপনের দিকগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।
ওহিদুন নবী রিয়াজের কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
এটা ছিল আমার প্রথম ‘কথা বলি’ এবং হঠাৎ করে অপরিচিত কারও সাথে কথা বলা। এ কারণে বিব্রত বোধ করছিলাম প্রথমে। পরে ঠিক হয়ে যায়।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবারের ছোট সন্তান উনি। যার ফলে ছোটবেলা থেকেই সবার প্রিয়। তাঁর একটি সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে আছে। কন্যা ও স্ত্রীসহ মোট তিনজনের সংসার। আমাদের আলাপের অধিকাংশ সময়জুড়ে স্কুলজীবনের বন্ধুবান্ধব, স্কুলজীবনে স্মরণীয় দিকগুলো নিয়ে অনেক আলাপ হয়। তিনি বলছিলেন, অষ্টম শ্রেণির ফলাফলের সময় তিনি ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর পাস করা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু ফলাফলের পর দেখা যায় একমাত্র রিয়াজ ভাই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তারপর বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ট্রিট দেওয়া, সারা এলাকা ঘুরে বেড়ানোসহ অনেক কিছুই শেয়ার করেছেন।
আপনার বন্ধুদের সাথে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
অবশ্যই আলাপ করাব।
ওহিদুন নবী রিয়াজের মধ্যে আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি লক্ষ্য করলেন?
ওনাকে সব সময় পজিটিভ মনে হয়েছে। পুরো আলাপেই তিনি জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো এবং খারাপ সময়েও আনন্দে থাকার কথা বলেছেন।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
না, ফোন নম্বর নেওয়া হয়নি।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
হ্যাঁ, ফেসবুকে যুক্ত হয়েছি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
আলাপের শেষের দিকে তিনি থেকে যেতে বললেন পরদিন আড্ডা দেওয়ার জন্য। সময়ের অভাবে তা হয়নি। তবে রিয়াজ ভাই মাঝে-মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।
ওহিদুন নবী রিয়াজকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
আত্মনির্ভরশীল, দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী এবং ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
আমি ১০-এর মধ্যে ৯.৫ দেব। হয়তো আরও সময় করে আলাপ দিতে পারলে আরও ভালো লাগত, অনেক কিছু জানতে পারতাম।