আজকের দিনে ইন্টারনেট ছাড়া একদিন কল্পনা করাই কঠিন। তবে জীবনজয়ীর ‘নাই নেট’ আয়োজনে সাড়া দিয়ে পহেলা ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি। প্রথমে মনে হয়েছিল, এটা হয়তো খুব বিরক্তিকর হবে। কিন্তু দিন শেষে বুঝলাম, এটি ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজই হলো মোবাইল হাতে নেওয়া। কিন্তু হঠাৎ মনে পড়ল, আজ তো ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না। ফেসবুক, ইউটিউব, নিউজ পোর্টাল, কোনোটাই দেখা যাবে না! প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগলেও চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। অনেক দিন পর মনে হলো, ডিজিটাল জগতের বাইরে তাকালে সকালটা সত্যিই শান্তিময় হতে পারে।
দুপুরে কাজ সেরে বই নিয়ে বসলাম। অনেক দিন ধরে কিছু উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সময় বের করতে পারিনি। সেদিন সুযোগটা কাজে লাগালাম। একটানা দুই-তিন ঘণ্টা বই পড়ে অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।
বিকেলে বাইরে হাঁটতে গেলাম। আশপাশের পরিবেশ লক্ষ করলাম, মানুষের সঙ্গে কথা বললাম, কিছু পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। অবাক হয়ে দেখলাম, ফোন ছাড়া মানুষের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করাও বেশ আনন্দদায়ক হতে পারে! তাছাড়া, এতে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমে এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।
রাতে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালাম। অনেক গল্প হলো, পুরোনো দিনের কিছু স্মৃতিচারণ করলাম। পারিবারিক আড্ডা কতটা মধুর হতে পারে, অনেক দিন পর আবার উপলব্ধি করলাম। এরপর একান্তে নিজেকেও কিছুটা সময় দিলাম। পোষা পাখির সঙ্গে সময় কাটালাম, হারমোনিয়ামের ধুলো ঝেড়ে গুনগুনিয়ে সুর তুললাম, ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে’...
এই দিনটি আমাকে শিখিয়েছে, ইন্টারনেট ছাড়াও জীবন সুন্দর হতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের অনেক সুবিধা দেয়, কিন্তু কখনো কখনো এর বাইরে বেরিয়ে আসাও প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে, মাঝে মাঝে অফলাইনে গিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও খুব জরুরি।