গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বরিশাল শহরের বনলতা বুক ক্যাফেতে
‘কথা বলি’তে বসেছিলেন মমতাজ বেগম পারভীন এবং মো. সাইদুর রহমান হৃদয়। মমতাজ বেগম অবসরপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তা। সাইদুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিচে থাকছে প্রথম আলাপে পরস্পরের সম্পর্কে তাঁদের ভাবনার বিবরণ।
হৃদয় হচ্ছে আশাবাদী ও উজ্জীবিত এক তরুণ: মমতাজ বেগম
প্রথমে সাইদুর রহমান হৃদয়কে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া ছাত্রই মনে হয়েছে। ভদ্র ছেলে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
নিজের পরিচয় দিয়ে শুরু করি। এরপর পরিবার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
জীবনসংগ্রাম। আমার লেখাপড়া, চাকরি, সংসার নিয়ে সে শুনতে চেয়েছে। আমার মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার গল্প হয়েছে। হৃদয়ের পরিবার, তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার গল্প—এগুলোই মূলত ছিল আলোচনায়।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের মিল ছিল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। তবে আমার বড় মেয়েকে ডাক্তার বানানোর ক্ষেত্রে আমি তার ওপর কোনো চাপ দিয়েছি কি না, তা নিয়ে কিছুটা কথা হয়েছিল। এ বিষয়ে হৃদয় একমত ছিল না। কিন্তু আমার বড় মেয়ে নিজের ইচ্ছাতেই ডাক্তার হয়েছে, আর ছোট মেয়ে নিজের ইচ্ছাতেই ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে।
হৃদয়ের কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
হৃদয়ের আচার-আচরণ খুব ভালো। হৃদয় কিছুটা ওভারওয়েট। এটা তার জন্য ক্ষতিকর। তাকে স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হতে বলেছি।
হৃদয়ের কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
হৃদয়ের কোনো কিছুতে বিব্রত হইনি। বরং আমার সময়স্বল্পতা ছিল, যেটার জন্য আমি নিজেকে নিয়ে বিব্রত হয়েছিলাম।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
উভয়ের পরিবার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। হৃদয় বন্ধুদের নিয়েও গল্প করেছে।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
নিশ্চয়ই, সুযোগ হলে সবার সঙ্গে পরিচয় করাব।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
হৃদয় হচ্ছে আশাবাদী ও উজ্জীবিত এক তরুণ।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হয়েছে। ওকে মাঝে মাঝে ফোন করতে বলেছি।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
না, ফেসবুকে যুক্ত হওয়া হয়নি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
যোগাযোগ রাখতে বলেছি, বাসায় দাওয়াত দিয়েছি। আশা করি, আমাদের আবার দেখা হবে।
হৃদয়কে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
বিনীত, ভদ্র।
আলাপটিকে আপনি ১০ নম্বরে কত দেবেন?
১০-এ ১০ দিতে চাই।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
ভালো লেগেছে খুব। ‘কথা বলি’ নতুন অভিজ্ঞতা। আগে তো এমনটা শুনিইনি।
সংগীতশিল্পী বা আবৃত্তিকার ভেবেছিলাম তাঁকে: হৃদয়
প্রথমে মমতাজ বেগম পারভীনকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। ঢাকা থেকে সকালে গিয়েছিলাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে অনিবার্য একটি কারণে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে আমি খুব লজ্জিত ছিলাম।
প্রথম দেখায় মমতাজ বেগমকে আমার একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ মনে হয়েছিল। সংগীতশিল্পী বা আবৃত্তিকার ভেবেছিলাম তাঁকে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
খুবই সাধারণ বিষয়, অর্থাৎ আমাদের পরিচয় দিয়ে শুরু হয়। আমিই আলাপ শুরু করেছিলাম। তিনি প্রায় আমার মায়ের বয়সী। একেবারেই চিন-পরিচয় নেই, এমন একটা ছেলের সঙ্গে কী কথা বলবেন, এই ভেবে তিনি শুরুতে একটু ইতস্তত করছিলেন বলে মনে হয়েছিল। পরে অবশ্য তা মনে হয়নি।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
কথা হয়েছে আমার ছাত্রজীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে। কীভাবে লড়াই করে দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন, সে কাহিনী শুনিয়েছেন মমতাজ বেগম। তাঁর স্বামী স্বনামধন্য সার্জন। তিনিও নার্সিংয়ের মতো মহান পেশায় ছিলেন। তাঁদের বড় মেয়ে চিকিৎসক এবং ছোট মেয়ে প্রকৌশলী।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
হ্যাঁ, এটা মজার ছিল। আমি তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ান একজন মা খুঁজে পাচ্ছিলাম। তিনি নিজের ক্যারিয়ার নিজে বেছে নিয়েছেন। স্বামীর আপত্তি সামাল দিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রে বাছাইয়ের স্বাধীনতা ছিল না বলে আমার মনে হয়েছিল।
শিশুকাল থেকেই ডাক্তার হওয়ার ব্যাপারটাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছিল। তাঁর কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে, বড় মেয়ের অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে এমবিবিএস করানো হয়েছে। এই নিয়ে আমাদের মজার অমিল হয়।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
বাচ্চাদের ঠিকভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাহিনী আমার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লেগেছে তাঁর সচেতনতার দিকটা।
মমতাজ বেগম পারভীনের কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
সত্যি বলতে তেমন বড় কিছু নয়। বরং আমিই তাঁকে শুরুতে অপেক্ষা করিয়েছি। তাঁর জরুরি একটা মিটিং ছিল। স্বভাবতই তাঁর যাওয়ার তাড়া ছিল।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
হ্যাঁ, তাঁর আর আমার পরিবার নিয়ে আলাপ হয়েছে। সদস্যসংখ্যা, কে কী করেন ইত্যাদি নিয়ে।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই করাতে চাইব। বিশেষ করে আমার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে। তিনি তাঁদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন। তাঁরাও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশাল চাপ ও দায়িত্বের বোঝা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। মমতাজ বেগমের সঙ্গে কথা বললে তারা নতুন প্রেরণা পেতে পারে।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
আমি সিংহভাগ আশাবাদ দেখেছি। সবটাই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁকে একজন আদর্শ নারী মনে হয়েছে। আমাদের মতো পিছিয়ে থাকা সমাজের নিরিখে তো বটেই।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। নিজে থেকেই আগে নম্বর বিনিময়ের কথা বলেছেন। পরবর্তীকালেও যোগাযোগ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ফেসবুকে কি পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
না। তিনি এ বিষয়ে সক্রিয় নন। এ ক্ষেত্রে তাঁর মেয়েরা সাহায্য করে থাকে।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
হ্যাঁ, আছে। আমি আবার বরিশাল গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা পোষণ করি। তিনি বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আসেন। আমি তাঁকে বলেছি, তিনি ঢাকা এলে যেন আমি জানতে পারি। গিয়ে দেখা করব।
মমতাজ বেগম পারভীনকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
আত্মপ্রত্যয়ী ও মার্জিত।
আলাপটিকে আপনি ১০ নম্বরে কত দেবেন?
সময়ের অভাবে আমাদের আলাপটি সম্পূর্ণ হয়নি। তথাপি আমি একে আটের কম দেব না।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
‘কথা বলি’ ব্যাপারটাই দারুন।