গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে গবেষণা দলের সঙ্গে বগুড়ায় গিয়েছিলেন সানজিদা সিদ্দিকী মনমী। সেখানে ‘জীবনজয়ী’র ‘কথা বলি’ আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় আব্দুল বাকিরের সঙ্গে। মনমী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকির বগুড়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
সানজিদা: আব্দুল বাকির ভদ্র ও সহজ মানুষ
আব্দুল বাকিরের সঙ্গে প্রথম দেখায় তাঁর সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়েছিল?
প্রথমে বাকির স্যারকে দেখে বেশ ভদ্র ও সহজ মানুষ মনে হয়েছিল।
কীভাবে আলাপ শুরু হয়েছিল?
পরিচয় ও প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ দিয়েই কথা শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে অনেক বিষয়েই আলাপ হয়েছিল।
আপনাদের মধ্যে কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল?
পরিবার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছিল।
কোন কোন বিষয়ে আপনাদের মতের মিল হয়েছিল? মতের অমিলও কি হয়েছিল?
মতের মিলই ছিল, অমিলের কিছু ছিল না।
তাঁর কোন দিকটি আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
বাকির স্যার বেশ মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিলেন, অনেক প্রশ্ন করছিলেন। এগুলো ভালো লেগেছে।
কথা বলতে গিয়ে কোনো সময় বিব্রত হয়েছিলেন কি? হলে কেন?
না, বিব্রত হওয়ার কিছুই হয়নি।
পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে কি কথা হয়েছিল?
পরিবার নিয়ে আলাপ হয়েছে। বাকির স্যাররা দুই ভাই। তাঁর বাবা পৃথিবীতে নেই। তিনি আর্মি অফিসার ছিলেন। এমন অনেক কথাই বাকির স্যার বলেছেন। আমিও আমার পরিবার নিয়ে অনেক কিছু বলেছি।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবেন কি? কেন?
হ্যাঁ, করানো যেতেই পারে।
তাঁর সঙ্গে কথা বলে আপনার কি মনে হয়েছে, তিনি আশাবাদী, নাকি হতাশাবাদী?
মানুষ হিসেবে তাঁকে ভালো মনে হয়েছিল।
তাঁকে দুই-তিনটি শব্দে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
নম্র, ভদ্র ও জ্ঞানী মানুষ।
আপনাদের মধ্যে কি মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়েছিল?
হ্যাঁ, ফোন নম্বর বিনিময় হয়েছে।
ফেসবুকে কি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন?
না, যুক্ত হইনি।
ভবিষ্যতে আবার দেখা বা কথা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন?
এটা আসলে বলা সম্ভব নয়। তিনি যদি ঢাকায় আসেন এবং জানান, তখন দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আমি কখনো বগুড়ায় যাব কি না, এটার সম্ভাবনা জানা নেই।
তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতাকে ১০-এর মধ্যে কত নম্বর দেবেন?
নয় দেওয়া যায়। প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ আমরা চুপ ছিলাম, কারণ একদমই অপরিচিত ছিলাম। তবে কথা বলা শুরু করার পর ভালোই আলাপ হয়েছিল।
এ বিষয়ে আরও কিছু বলতে চান?
‘কথা বলি’ সুন্দর একটা উদ্যোগ। নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। স্যারের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেও ভালো লেগেছে।
এখানে পড়ুন: শেরপুর নিউমার্কেটে ইকবাল ও স্বর্ণা
আব্দুল বাকির: মনমী বিনয়ী ও মর্যাদাসম্পন্ন
প্রথম দেখায় সানজিদা সিদ্দিকী মনমী সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়েছিল?
জীবনজয়ীর ‘কথা বলি’ এর মাধ্যমে যখন মনমীর সঙ্গে প্রথম পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেলাম, প্রথম অবস্থায় আমি একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম। বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে হুট করে পরিচিত হওয়াটা হয়তো সবার পক্ষে খুব একটা সহজ নয়। কলেজ ক্যাম্পাসে চলতে চলতে অল্প কিছুক্ষণ আলাপে কোনো মেয়ের ব্যক্তিত্ব বিচার করা প্রায় অসম্ভব। তারপরও এককথায়, তাকে বিনয়ী ও মর্যাদাসম্পন্ন মনে হয়েছে।
.কীভাবে আলাপ শুরু হয়েছিল?
পুরো আলাপে আমি শুধু প্রশ্ন করেছি, সে উত্তর দিচ্ছিল। আমি বরাবর নিজের সম্পর্কে বলার চেয়ে অন্যের জীবনের গল্প শুনতে বেশি পছন্দ করি। এটা আমার কাছে বেশি উপভোগ্য। এটা আমাকে আনন্দ দেয়।
আপনাদের মধ্যে কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল?
পরিবার, স্কুলজীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছিল।
কোন কোন বিষয়ে আপনাদের মতের মিল হয়েছিল? মতের অমিলও কি হয়েছিল?
একদমই হয়নি।
তাঁর কোন দিকটি আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
এই উত্তর পরবর্তী কোনো সময়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকল।
কথা বলতে গিয়ে কোনো সময় বিব্রত হয়েছিলেন কি? হলে কেন?
একদমই নয়। আমি বেশ উপভোগ করেছি। ভিন্ন একটি জেলার কারও সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে আমার বেশ ভালো লেগেছে।
পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে কি কথা হয়েছিল?
পরিবার নিয়ে আলাপ করেছি। বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে আলাপ হয়নি।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবেন কি? কেন?
এই উত্তর পরবর্তী কোনো সময়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকল।
তাঁর সঙ্গে কথা বলে আপনার কি মনে হয়েছে, তিনি আশাবাদী, নাকি হতাশাবাদী?
এটি আমার কাছে অস্পষ্ট।
তাঁকে দুই-তিনটি শব্দে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
এককথায়, বিনয়ী ও মর্যাদাসম্পন্ন।
আপনাদের মধ্যে কি মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়েছিল?
হ্যাঁ, হয়েছে।
ফেসবুকে কি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন?
না, হইনি। ফেসবুকে আমি প্রায় নিষ্ক্রিয়।
ভবিষ্যতে আবার দেখা বা কথা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন?
আবার দেখা হবে কি না, সেটা জানি না। তবে আমি মনমীকে আমাদের বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ঘুরে দেখাতে চেয়েছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আমার দিক থেকে সেটা মন্দ হবে না।
তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতাকে ১০-এর মধ্যে কত নম্বর দেবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না।
এ বিষয়ে আরও কিছু বলতে চান?
‘কথা বলি’ আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটা দেশের প্রেক্ষাপটে আমার কাছে একেবারেই নতুন মনে হয়েছে। আশা করি, ‘কথা বলি’ উদ্যোগটি চলমান থাকবে। জীবনজয়ীর ব্যানারে এ ধরনের আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা ফেসবুক ও ইউটিউবে পাঠক-দর্শকের সাড়া জাগাবে বলে আমি মনে করি।
এখানে পড়ুন: ভবেরচরে সুস্মিতা ও ইফতি