গত বছর এপ্রিল মাসের শেষ দিকে খুলনা শহরে বিস্ট্রো-সি রেস্টুরেন্টে জীবনজয়ীর আমন্ত্রণে “কথা বলি” আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন হৃদিকা আহসান শ্রেয়া এবং তনুরুহা ইসলাম হৃদ্যতা। প্রথমজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী, আর দ্বিতীয়জন খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী। প্রথম আলাপে উঠে আসা বিষয়গুলো জীবনজয়ী পাঠকদের জন্য লিখে দিয়েছেন হৃদ্যতা ও হৃদিকা।
হৃদ্যতার চোখে হৃদিকা: সে ভীষণ সুন্দর করে কথা বলে
প্রথমে হৃদিকাকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
চলাফেরায় বেশ পরিণত ভাব ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো বেশ গম্ভীর একজন মানুষ হবে। কিন্তু কথা বলতে বলতে গিয়ে দেখি সে খুবই মিশুক প্রকৃতির মানুষ। ভীষণ সুন্দর করে কথা বলে। তা ছাড়া হৃদিকার বাচনভঙ্গি অসাধারণ।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
নিজেদের পরিচয় দিয়ে কথোপকথন শুরু হয়। তারপর আবহাওয়া, চা নাকি কফি—এভাবেই এগোতে থাকে আড্ডা।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
অনেক বিষয় নিয়েই। সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আবহাওয়া, শখ, পড়াশোনা, প্রেম, প্রণয়, বন্ধুত্ব, ওর সাংস্কৃতিক চর্চাসহ আরও কত কী!
হৃদিকা ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-তে সক্রিয়। রেডিওতে নিয়মিত খবর পাঠ করে। স্টুডেন্ট এগেইনস্ট ভায়োলেন্স এভরিহয়্যার (SAVE) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য হৃদিকা। তা ছাড়া বাচিকশিল্পে তার বিশেষ দক্ষতা আছে। ছোটবেলায় সে এনসিটিএফ ও বন্ধুসভার সঙ্গে কাজ করেছে।
ভালোবাসার বিষয়ে সে নব্বইয়ের দশকের প্রেমকে নিজ জীবনে প্রাধান্য দেয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা থাকলেও, ভালোবাসাকে অত্যাধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে রাজি নয়। সামাজিক শিষ্টাচার আর ইতিবাচক বোধের চর্চা করে হৃদিকা।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মিল ছিল বেশ। অমিল তেমন লক্ষ করিনি।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
সাবলীল ভাষায় কথা বলা, খুব সহজে কাউকে আপন করে নেওয়ার দক্ষতা। আলাপ শেষে মনে হয়নি, এটাই হৃদিকার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।
হৃদিকার কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
না। আমার মনে হয় কেউই ওর সঙ্গে কথা বলে বিব্রত হবে না।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবার নিয়ে বেসিক কিছু কথা হয়েছে। বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলেছে। সে বন্ধুত্বের বিষয়ে খুব ইতিবাচক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংস্কৃতিক-সাংগঠনিক জীবনে ওর অনেক ভালো বন্ধু আছে। বোধ করি মানুষকে সহজে আপন করে নিতে পারার গুণটা এভাবেই তৈরি হয়েছে।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
হ্যাঁ। আমার মনে হয়েছে, সে খুবই ইতিবাচক চিন্তার মানুষ। আমার বন্ধুরা ওর সঙ্গে পরিচিত হয়ে বেশ খুশি হবে।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
হৃদিকা ভীষণ আশাবাদী মানুষ।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
হ্যাঁ। বাসায় ফিরে ওর ফেসবুক প্রোফাইল দেখে ওর সম্পর্কে আরও অনেক ইতিবাচক ধারণা পেলাম।
আপনাদের কি আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
যেহেতু সে ছুটিতে আমার শহরে আসে, তাই সম্ভাবনা আছে। হৃদিকা কথা দিয়েছে, আবার খুলনায় এলে দেখা হবে।
হৃদিকাকে তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
মানবিক, মিষ্টভাষী, দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
৯.৫
চাইলে আরও কিছু বলুন।
অপরিচিত মানুষও যে প্রথম সাক্ষাতেই ভালো বন্ধু হতে পারে, এ অভিজ্ঞতা আমার এবারই প্রথম হলো। এই সুযোগ প্রদানের জন্য জীবনজয়ীকে ধন্যবাদ।
হৃদিকার চোখে হৃদ্যতা: তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে আমি মুগ্ধ
প্রথমে হৃদ্যতাকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
আমাদের যে রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা ছিল, সেখানে আমার মিনিট তিনেক আগেই পৌঁছে যায় হৃদ্যতা। আমরা যেহেতু অপরিচিত ছিলাম, তাই একটু চিন্তায় ছিলাম যে সে আমার থেকে বয়সে না জানি কত বড় হবে! পরে যখন ওকে প্রথম দেখলাম, মনে হলো আমাদের বয়সের খুব বেশি পার্থক্য হবে না। আমাকে দেখামাত্র সে হাসিমুখে কথা বলে পরিচিতি নিশ্চিত করল। তখনই ভেবেছিলাম যে হয়তো মন খুলে কথা বলা যাবে। তাকে দেখে আমার মনে হয়েছিল, সে সহজে নতুনদের সঙ্গে মিশতে পারে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
আলাপের প্রায় শুরুর দিকেই আমরা আবিষ্কার করি যে চা বা কফি কোনোটাই আমরা বিশেষ পছন্দ করি না। যেহেতু কিছু একটা অর্ডার করতে হবে, তাই আমরা পেস্ট্রি অর্ডার করি। এরপর আমাদের কথোপকথন শুরু হয়।
কোন কোন বিষয় নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
আমরা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। ভালোবাসা, সাহিত্য, পরিবার, সংস্কৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়, বৃষ্টি—এমনকি যে কফিশপে বসে আমরা গল্প করছিলাম, সেটা সম্পর্কেও হৃদ্যতা আপু তার স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করেছে। সে খুবই সাবলীল ও উচ্ছ্বসিত হয়ে কথা বলছিল, যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমরা বিএনসিসি সম্পর্কে কথা বলেছি। সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত।
কেমন জীবনসঙ্গী চাই, এ ব্যাপারেও আমাদের বেশ মজার আলাপ হয়। যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে ছিলাম, একবারের জন্যও ভাবতে হয়নি যে এরপরে কী বলা যায়। সব বিষয়ে আলোচনা করেছি নির্দ্বিধায়।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
আমাদের বেশ কিছু বিষয়ে মিল ছিল। যেমন, আমরা দুজনই পুরোনো দিনের গান শুনতে ভালোবাসি। আমরা আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আমরা দুজনই উপস্থাপনা করতে ভালোবাসি। অমিল তেমন কিছুই ছিল না।
কোন কোন দিক ভালো লেগেছে?
হৃদ্যতা আপু অত্যন্ত মিশুক ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে আমি মুগ্ধ। আমি তার চেয়ে বয়সে এক বছরের ছোট। খাবার অর্ডার করার সময় আমাকে ঠিকই ছোটদের মতো প্রাধান্য দিয়েছে। আবার গল্প করার সময় মনে হয়েছে যেন সে আমার বন্ধু।
হৃদ্যতার কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
না।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
হৃদ্যতা আপুদের যৌথ পরিবার। খুলনায় তারা যে বাসায় থাকে, সেটি তার মায়ের বাড়ি। মামা, নানা ও খালারা একই বাড়িতে থাকেন। যেকোনো অনুষ্ঠান কিংবা উৎসবে সবাই একত্র হন। হৃদ্যতা আপু বন্ধুদের সঙ্গে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে আড্ডা দিতে পছন্দ করে। তার বন্ধুমহলের প্রায় সকলেরই ছবি তোলার শখ আছে।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কি ওনাকে আলাপ করাবেন?
অবশ্যই। ফেরার সময় হৃদ্যতা আপুর এক বন্ধু তার জন্য রেস্টুরেন্টের নিচে অপেক্ষা করছিলেন। তার সঙ্গেও আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
আশাবাদ।
মুঠোফোন নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
হ্যাঁ।
আপনাদের কি আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
আমি চাই আমাদের যোগাযোগ থাকুক এবং আবার আমাদের দেখা হোক।
হৃদ্যতাকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
মিশুক, স্পষ্টবাদী, রুচিশীল।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
১০ দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
জীবনজয়ী থেকে কমপক্ষে পঁয়তাল্লিশ মিনিট কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আমি মনে মনে ভেবেছিলাম, কীভাবে এতটা সময় একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলব। যখন আমাদের কথা শেষ হয়, দেখি আমরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা গল্প করেছি। সময়ের দিকে কেউ খেয়াল করিনি। মাঝে কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ায় আমরা বের হতে পারিনি, কিন্তু আমরা চাইওনি বের হতে। জীবনজয়ীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। জীবনজয়ীর মাধ্যমেই এত সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো।