মিজানুর রহমানের সঙ্গে মো. আবু সায়েম ভূঁইয়া শাহীনের পরিচয় হয়েছিল খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে। মিজানুর রহমান এই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। অন্যদিকে, শাহীন একজন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।
জীবনজয়ীর আমন্ত্রণে তারা দুজন ‘কথা বলি’ পর্বে অংশ নেন গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। সেদিন কয়েক দফায় তাদের কথা হয়। অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও বেড়ান। প্রথম দেখায় একে অপরকে কেমন লেগেছিল? কী নিয়ে কথা হয়েছিল? আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনাই বা কতটুকু? তাদের কথোপকথনে উঠে এসেছে প্রথম পরিচয়ের অভিজ্ঞতা ও একে অপরকে নিয়ে ভালো লাগার নানা দিক।
শাহীন: মিজান ভাইয়ের উদারতা ও পরোপকারী মনোভাব দারুণ লেগেছে
প্রথমে মিজানুর রহমানকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
খুব স্বাভাবিক একজন মানুষ মনে হয়েছিল। সাদাসিধে পোশাকে তাকে মানানসই লাগছিল। কথাবার্তা ও আচরণে তাকে মিশুক প্রকৃতির মানুষ বলে মনে হয়েছে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
পরিচয় দিয়ে আলাপ শুরু হয়েছিল। জানলাম, তিনি সরকারি কলেজের শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
অনেক বিষয় নিয়ে মিজান ভাইয়ের সঙ্গে খোলামেলা কথা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, পেশা, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, এমনকি আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও কথা হয়েছে।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
অমিল তেমন ছিল না। তবে খাদ্যাভ্যাস ও রুচিতে কিছু পার্থক্য আছে। এটা খুবই স্বাভাবিক।
কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
তার উদারতা ও পরোপকারী মনোভাব দারুণ লেগেছে। কারও জন্য কিছু করতে পারলে তিনি খুব আনন্দ পান।
তার কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন?
মিজান ভাইয়ের অতিরিক্ত যত্ন ও আন্তরিকতায় মাঝেমধ্যে একটু অস্বস্তিতে পড়ছিলাম! শুধু আমি নই, আমাদের দলের অন্যদেরও একই অবস্থা হয়েছিল। তিনি জানপ্রান দিয়ে আমাদের আপ্যায়ন করছিলেন। তার বাসায় সকালের নাশতার আয়োজনের কথাও বিশেষভাবে বলতে হয় এক্ষেত্রে। আদিবাসী মানুষজন পরিচালিত স্বনির্ভর বাজারে আমার সবাই গিয়েছিলাম শাক-লতা-পাতা কিনতে। মিজান ভাই সেখানেও সবাইকে ধরে ধরে সাহায্য করছিলেন।
পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়েও কথা হয়েছে। মিজানুর রহমান দুই সন্তানের জনক। বড় সন্তান মেয়ে, আর ছোটটি ছেলে। মেয়েটি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছে। ছোটটি স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ে। মিজান ভাই ও তার সহধর্মিণী মিলে সংসারের সবকিছু সামলান। ছোট পরিবার, সুখী পরিবার।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবেন?
সুযোগ পেলে আমার বন্ধুদের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে।
তাকে আশাবাদী, নাকি হতাশাবাদী মানুষ বলে মনে হয়েছে?
তাকে আমার পুরোপুরি ইতিবাচক মানুষ বলে মনে হয়েছে। তিনি সহজে হাল ছেড়ে দেন না। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলেন।
মোবাইল নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। আমরা হোয়াটসঅ্যাপেও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন কি?
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হওয়া হয়নি। তিনি ফেসবুকে সক্রিয় নন।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
হ্যাঁ, আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি ঢাকা এলে আমার সঙ্গে দেখা করবেন বলেছেন। আমাকেও আমার সুবিধামতো সময়ে খাগড়াছড়ি যেতে বলেছেন।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে কত দেবেন?
আলাপটিকে ১০-এর মধ্যে ৯ দেওয়া যায়।
আরও কিছু বলতে চান?
মিজান ভাই একজন পরোপকারী মানুষ। এ রকম ইতিবাচক মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে
মিজানুর: মানুষ হিসেবে শাহীন ভাই দারুণ
প্রথমে আবু সায়েম শাহীনকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
প্রথমে তাকে দেখে ভালো লেগেছিল। কথা বলে বুঝলাম, তার সঙ্গে আমার জীবনবোধের অনেক মিল। আমরা কাছাকাছি চিন্তা করি।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
পরিচয় দিয়ে আলাপ শুরু হয়েছিল। শাহীন একজন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার সাথে কাজ করেন।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
অনেক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা কথা হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা হয়েছে।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের অমিল তেমন ছিল না। তার সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনার অনেক মিল পেয়েছি।
কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
মানুষ হিসেবে শাহীন ভাই দারুণ। ছোট ছোট বিষয়েও নজর দেন, হাসি-ঠাট্টা করেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ ভালো লেগেছে।
তার কোনো কিছুতে কি বিব্রত হয়েছিলেন?
না, বিব্রত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।
পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কি আলাপ হয়েছে?
পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কথা হয়েছে। শাহীন এক সন্তানের জনক। তার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার সহধর্মিণী একজন গৃহিণী।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবেন?
সুযোগ পেলে আমার বন্ধুদের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে এ ক্ষেত্রে তারও আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।
তাকে আশাবাদী, নাকি হতাশাবাদী মানুষ বলে মনে হয়েছে?
শাহীন ভাইকে আমার পুরোপুরি ইতিবাচক মানুষ বলে মনে হয়েছে। তিনি সহজে দমে যাওয়ার মানুষ নন।
মোবাইল নম্বর কি বিনিময় হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপেও যুক্ত হয়েছি।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন কি?
ফেসবুকে যুক্ত হইনি। আমি ফেসবুকে কম সক্রিয়।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
আমি ঢাকা গেলে তার সঙ্গে দেখা করার আশা রাখি। তিনি খাগড়াছড়ি এলে আমার সঙ্গে দেখা করবেন।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে কত দেবেন?
আলাপটিকে ১০-এর মধ্যে ১০ দেওয়া যায়।
আরও কিছু বলতে চান?
শাহীন ভাইয়ের মতো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক খুব স্বস্তিদায়ক।