বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা


  • জীবনজয়ী ডেস্ক   |
  • প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০
এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা
ছবি: এআই

একটু ভাবুন তো। আপনি একটি এআইনির্ভর গবেষণা ব্যবস্থাকে সাধারণ বাংলা বা ইংরেজিতে বললেন, ‘আমার এমন একটি সম্ভাব্য ওষুধের নকশা দরকার, যা ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।’ এরপর সেই ব্যবস্থা নিজেই গবেষণার পরিকল্পনা তৈরি করল, প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করল, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ল্যাবযন্ত্রের সাহায্যে নির্দিষ্ট ধরনের পরীক্ষা পরিচালনা করল এবং গবেষকদের কাছে ফলাফল তুলে ধরল। শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির (সিএমইউ) বিজ্ঞানীরা এমন একটি ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শুধু বিজ্ঞানীদের সহকারী নয়, গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে কথা বলেছেন সিএমইউর কলেজ অব সায়েন্সের ডিন বারবারা শিন-কানিংহাম। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে ওয়াশিংটন বিজনেস জার্নালে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে পড়ুন জীবনজয়ী প্রতিবেদন।  

তথ্যের মহাসমুদ্রে এআই

আজকের দিনে বিজ্ঞান মানেই কোটি কোটি তথ্যের বিশাল এক মহাসমুদ্র। চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে মহাকাশ গবেষণা, সব ক্ষেত্রেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি হচ্ছে। মানুষের পক্ষে এত তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। এখানেই এআই হয়ে উঠছে গবেষকদের শক্তিশালী সহযোগী।

প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো জটিল ক্ষেত্রে এআই অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ধারা ও সমাধানের পথ খুঁজে দিতে পারে। গণিত ও পদার্থবিদ্যার অনেক কঠিন সমস্যার ক্ষেত্রেও এটি গবেষকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিচ্ছে।

ল্যাব থেকে উৎপাদনে রোবট ও এআই

বিজ্ঞানীদের গবেষণার সঙ্গে যখন রোবোটিক্স ও এআই যুক্ত হয়, তখন গবেষণার গতি অনেক বেড়ে যায়। ল্যাবে নতুন কোনো উপাদান বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পর সেটিকে শিল্পকারখানায় ব্যবহারযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাধারণত দীর্ঘ সময় লাগে। সিএমইউর গবেষকেরা এমন কিছু ব্যবস্থা তৈরি করছেন, যা এই রূপান্তরকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পারে।

এর ফলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নতুন উপকরণ কিংবা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি মানুষের কাছে আগের তুলনায় দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

রসায়ন, গণিত ও কণাবিজ্ঞানে এআই

কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির অন্যতম শক্তি হলো বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করার সংস্কৃতি। এখানে রসায়নবিদ, গণিতবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা একই গবেষণায় অংশ নেন।

এআই ব্যবহার করে গবেষকেরা সম্ভাব্য নতুন ওষুধের অণুর নকশা তৈরি করছেন, যাতে ওষুধ আবিষ্কারের প্রাথমিক ধাপ আরও দ্রুত এগোয়। একইভাবে, জটিল গাণিতিক সমস্যার বিশ্লেষণ ও প্রমাণ যাচাইয়েও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

[এখানে পড়ুন: রাজনীতির রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা] 

ইউরোপের সার্নের (CERN) লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪ কোটি কণা-সংঘর্ষ ঘটে। এসব সংঘর্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি হয়। এআই ও উন্নত কম্পিউটার ব্যবস্থা দ্রুত বিশ্লেষণ করে কোন তথ্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা বেছে নিতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করছে।

পিটসবার্গে বায়োম্যানুফ্যাকচারিংয়ের নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ এখন এমন এক গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি।

ল্যাবে উদ্ভাবিত ধারণাগুলোকে বায়োফোর্জ ও এআরএম ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বাস্তব উৎপাদনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত মানুষের উপকারে আসে।

ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের নতুন প্রস্তুতি

বারবারা শিন-কানিংহামের মতে, আগামী দিনের বিজ্ঞানীদের শুধু নিজ নিজ বিষয়ের জ্ঞান থাকলেই চলবে না। তাদের বিজ্ঞান, তথ্যবিজ্ঞান, এআই ও ডেটা বিশ্লেষণ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি রোবট ও স্বয়ংক্রিয় গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাও প্রয়োজন হবে।

তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গল্পের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর চরিত্র, কোসায়েন্টিস্ট

এই পুরো গল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো গ্যাব্রিয়েল গোমেসের নেতৃত্বে তৈরি ‘কোসায়েন্টিস্ট’ (Coscientist)।

এটি এমন একটি এআইভিত্তিক গবেষণা ব্যবস্থা, যা মানুষের সাধারণ ভাষার নির্দেশ বুঝতে পারে। গবেষক কী করতে চান, তা বুঝে এটি গবেষণার পরিকল্পনা তৈরি করতে, বৈজ্ঞানিক তথ্য খুঁজে বের করতে এবং রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ল্যাবযন্ত্র ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ধরনের পরীক্ষার ধাপ সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে।

যে গবেষণার কিছু ধাপ আগে সম্পন্ন করতে অনেক বেশি সময় লাগত, সেখানে এ ধরনের এআইনির্ভর ব্যবস্থা গবেষণার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে নতুন কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি মানুষের ব্যবহারের আগে এখনও প্রাণী ও মানুষের ওপর পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হয়।

বিজ্ঞান গবেষণার এক নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে, যেখানে মানুষ, এআই ও রোবট একসঙ্গে কাজ করে গবেষণাকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে পারে। 

[এখানে পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ক্যানসার শনাক্তকরণ] 


ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

         

  রেটিং: ৫

এই বিভাগের আরও পোস্ট

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা|
  •  ১৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ০৬-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

  • নিশাত সাবা|
  •  ০২-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩.৮

এআইকে প্রম্পট করার দক্ষতা

এআইকে প্রম্পট করার দক্ষতা

  • নওশিন সাদিয়া |
  •  ২১-০৭-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

রাজনীতির রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

রাজনীতির রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

  • স্মৃতি রানী বর্মন |
  •  ১৫-০৬-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩.৬

পালটে দেওয়ার প্রযুক্তি: এক

পালটে দেওয়ার প্রযুক্তি: এক

  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা, স্মৃতি রানী বর্মণ ও তাসমিয়া মেহেরিন|
  •  ৩০-০৫-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।