বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

পালটে দেওয়ার প্রযুক্তি: এক


  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা, স্মৃতি রানী বর্মণ ও তাসমিয়া মেহেরিন  |
  • প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১৩:০২
পালটে দেওয়ার প্রযুক্তি: এক
ছবি: এআই

প্রযুক্তির নিত্যনতুন বিকাশের খবরাখবর রাখা আজকাল কঠিন হয়ে উঠছে। কল্পনা ও বাস্তবের পার্থক্যটাই যেন ঘুচিয়ে দিতে চাইছে প্রযুক্তি—তা সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পছন্দের মানুষের জন্য চিঠি লেখা হোক, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য সক্রেটিসের জবানবন্দীর ঢঙে বিশেষজ্ঞসুলভ পোস্ট তৈরি করা হোক কিংবা মানুষের শরীরে ন্যানোরোবট পাঠানোই হোক। এত ডামাডোলের মধ্যেও এমন কিছু প্রযুক্তি ইতোমধ্যে চলে এসেছে বা সামনের দিনগুলোতে আসতে পারে, যেগুলো জীবনযাপন থেকে শুরু করে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আমাদের ভাবনাকেও প্রভাবিত করবে।

বিবিসি সায়েন্স ফোকাস এমন ২২টি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। সেই তালিকা থেকে জীবনজয়ীর বেছে নেওয়া কয়েকটি প্রযুক্তি নিয়ে পড়ুন দুই পর্বের এই প্রতিবেদন। বিবিসি সায়েন্স ফোকাসসহ আরও কয়েকটি উৎস অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ঘ্রাণ-সক্ষম ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি

বাইরে প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরম। আর আপনি মাথায় হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (এইচএমডি), হাতে ডেটা গ্লাভস ও পূর্ণাঙ্গ বডিস্যুট পরে বৃষ্টি উপভোগ করছেন! শুধু তা–ই নয়, বৃষ্টিভেজা মাটির ঘ্রাণও পাচ্ছেন! হ্যাঁ, প্রযুক্তি আজ এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি শুধু দেখা ও শোনার মধ্যেই আবদ্ধ না থেকে আপনাকে ঘ্রাণের জগতেও নিয়ে যেতে চায়। এটি সম্ভব হয়েছে স্মেলি ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি (স্মেলি ভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে।

স্মেলি ভিআরের উদ্ভাবক সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের একদল গবেষক। ‘ওয়্যারলেস ওলফ্যাক্টরি ফিডব্যাক সিস্টেম’-এর মাধ্যমে তারা ভার্চ্যুয়াল জগতে ঘ্রাণ যুক্ত করার একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবক দলের ইউ শিংয়ের মতে, মানুষের অনুভূতির অভিজ্ঞতায় গন্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ গন্ধ উৎপাদন প্রযুক্তি বড় আকারের যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল, যা কোনো নির্দিষ্ট ঘর বা এলাকায় গন্ধ ছড়ায় এবং সাধারণত ভিআর ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু সিটি ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরি নতুন প্রযুক্তিটি নমনীয়, ক্ষুদ্রাকৃতির, পরিধানযোগ্য, তারবিহীন এবং প্রোগ্রামনির্ভর।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে ভিআর গেমিং, অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম, চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল বিপণন, মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি কিংবা ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগের ক্ষেত্রে। সিটি ইউনিভার্সিটির এই গবেষণা নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের খাবার 

এক আমলে ‘শাকালাকা বুম বুম’ নামে বাচ্চাদের জন্য একটি জনপ্রিয় হিন্দি সিরিয়াল ছিল। এই সিরিজে ম্যাজিক পেনসিল দিয়ে যে খাবারের ছবি আঁকা হতো, সেটাই বাস্তব খাবার হয়ে যেত! প্রযুক্তি সেই পেনসিল এখনো তৈরি করতে পারেনি। তবে থ্রি-ডি প্রিন্টেড ফুড নামের নতুন প্রযুক্তি সেই কল্পনাকে অনেকটাই বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে দুপুরের খাবার হিসেবে থ্রি-ডি প্রিন্টারে তৈরি এবং লেজারের সাহায্যে রান্না করা বিরিয়ানিও আর কল্পকাহিনি বলে মনে হবে না।

এই সম্ভাবনাকে বাস্তবের দিকে এগিয়ে নিয়েছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষকেরা। তারা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা খাদ্য-ইঙ্ক (Food Ink) ব্যবহার করে সাতটি উপাদানের একটি চিজকেক তৈরি করতে পারে এবং লেজারের সাহায্যে সেটি রান্নাও করতে পারে।

পছন্দের খাবার, পেশাদার ক্রীড়াবিদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা, রোগীর পথ্য কিংবা অফিসে যাওয়ার আগে দ্রুত প্রস্তুত খাবার—সবই একদিন তৈরি হতে পারে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে। পুষ্টিকর, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী খাদ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

মস্তিষ্কের সংকেত নিয়ন্ত্রিত রোবট

পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী। নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজই তাঁর পক্ষে করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন রোবট আসতে পারে, যা ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের সংকেত বুঝে তার হয়ে অনেক কাজ সম্পন্ন করবে।

এই প্রযুক্তিতে ব্যক্তির মস্তিষ্কের সঙ্গে একটি ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) যুক্ত থাকে, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করে এবং সে অনুযায়ী রোবটকে নির্দেশ দেয়। এই প্রযুক্তির উন্নয়নে সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি লুসানের একদল গবেষক সফল গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) ক্যাপ নামের একটি সেন্সর ব্যবহার করে একটি রোবট বাহু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্যক্তির মাথায় ইইজি ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়। এটির মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে আসা সংকেত অনুযায়ী রোবট বাহুটি পরিচালিত হয়। গবেষকেরা এর পথে একটি পানির গ্লাস বাধা হিসেবে রেখে দেন। রোবট বাহুটি যখন গ্লাসটির খুব কাছ দিয়ে বা ধাক্কা দিয়ে কিংবা দ্রুতগতিতে যেতে থাকে, তখন ব্যক্তির মস্তিষ্ক থেকে একধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক সংকেত তৈরি হয়। ব্যক্তি হয়তো ভাবেন, ‘না, এভাবে নয়!’ তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোবট বাহুটি তার পথ পরিবর্তন করে ফেলে বা বাধাটিকে পাশ কাটিয়ে যায়। এভাবে বারবার ভুল থেকে শেখার মাধ্যমে ব্যক্তি ও রোবটের মধ্যে কার্যকর মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে।

গবেষকেরা আশা করছেন, হুইলচেয়ারের সঙ্গে এই ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস যুক্ত করা গেলে একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিও প্রায় সুস্থ মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া করতে পারবেন।




ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ১১-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২৮-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২১-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা|
  •  ১৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ০৬-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

  • নিশাত সাবা|
  •  ০২-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩.৮

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।