বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব


  • জীবনজয়ী ডেস্ক   ঢাকা, বাংলাদেশ |
  • প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১০
যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

উনিশ শতকের শেষভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সময়টি পরিচিত ‘গিল্ডেড এজ’ নামে। মোটামুটি ১৮৭০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত এই কয়েক দশকে দেশটির চেহারা দ্রুত বদলে যেতে থাকে। কৃষি ও ছোট উৎপাদননির্ভর সমাজ ধীরে ধীরে বড় শহর ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যায়।

শুধু অর্থনীতি বা শহরের চেহারাই বদলাচ্ছিল না। প্রকৌশল, রসায়ন ও প্রযুক্তিতেও চলছিল একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার ফলেই তৈরি হচ্ছিল এমন কিছু যন্ত্র, যেগুলো পরবর্তী সময়ে মানুষের যোগাযোগ, যাতায়াত, বিনোদন এমনকি দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরনও পাল্টে দেয়।

আজকের পরিচিত পৃথিবীর অনেক কিছুর শুরু আসলে সেই সময়ের ছোট ছোট পরীক্ষাগারে।

সেই সময়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের গল্প এমনই বলছে হিস্ট্রি ডট কম। 

টেলিফোন: দূরের মানুষকে কাছে আনার শুরু

আজ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডেই কথা বলা যায়। কিন্তু মানুষের কণ্ঠস্বরকে তারের মাধ্যমে দূরে পাঠানোর এই ধারণা তৈরি হয়েছিল উনিশ শতকেই।

১৮৬০ সালের দিকে ইতালীয় উদ্ভাবক আন্তোনিও মেউচি এমন একটি যন্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন, যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর পাঠানো সম্ভব ছিল। তিনি যন্ত্রটির নাম দিয়েছিলেন ‘টেলেট্রোফোন’।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর মেউচি আর্থিক সমস্যায় পড়েন। ফলে তার অস্থায়ী পেটেন্ট নবায়ন করা সম্ভব হয়নি এবং ১৮৭৪ সালে সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

এরপর টেলিফোনের পেটেন্টযোগ্য নকশা তৈরির দৌড়ে নামেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ও এলিশা গ্রে। ১৮৭৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলের আইনজীবীরা গ্রের কয়েক ঘণ্টা আগে পেটেন্ট আবেদন জমা দেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অফিসের নথিতে উল্লেখ আছে। বেলের আবেদন অনুমোদিত হয় ৭ মার্চ।

টেলিফোনের কৃতিত্ব নিয়ে অবশ্য গল্পটি এত সরল ছিল না। গ্রে ও মেউচি দুজনেই বেলের বিরুদ্ধে তাদের ধারণা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। বেলকে ঘিরে পরবর্তী সময়ে আরও বহু আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি টেলিফোনের পেটেন্টের একক স্বীকৃতি ধরে রাখতে সক্ষম হন।

আর মাত্র তিন দিন পর, ১০ মার্চ ১৮৭৬ সালে, বেল তার সহকারী থমাস ওয়াটসনের কাছে টেলিফোনে প্রথম সফলভাবে বোধগম্য কথা পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।

একটি তারের অন্য প্রান্তে থাকা মানুষটির কণ্ঠস্বর তখন আর শুধু শব্দ ছিল না। সেটি হয়ে উঠেছিল দূরত্ব পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া এক নতুন ধরনের যোগাযোগ।

কথা বলা গেল, এবার শব্দ ধরে রাখা যাক

টেলিফোন মানুষের কণ্ঠস্বরকে দূরে পৌঁছে দিল। কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন তখনও রয়ে গেল।

শব্দ কি ধরে রাখা যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এগিয়ে এলেন থমাস এডিসন।

টেলিগ্রাফ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এডিসন এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যাতে বৈদ্যুতিক সংকেতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাগজে দাগ বা চিহ্ন তৈরি করে বার্তা সংরক্ষণ করা যেত। পরে তিনি ভাবলেন, একই ধরনের ধারণা ব্যবহার করে টেলিফোনের কথাও কি রেকর্ড করা সম্ভব?

সেখান থেকেই শুরু হলো নতুন পরীক্ষা।

এডিসন এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করলেন, যেখানে শব্দের কম্পন একটি নমনীয় ডায়াফ্রামকে কাঁপাবে। সেই কম্পন একটি সূচের মাধ্যমে কোনো নরম উপাদানের ওপর চিহ্ন তৈরি করবে। পরে সেই চিহ্ন অনুসরণ করে আবার শব্দ তৈরি করা যাবে।

প্রথমে তিনি বিভিন্ন উপাদান নিয়ে পরীক্ষা চালান। শেষ পর্যন্ত পাতলা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মোড়ানো একটি ঘূর্ণায়মান ধাতব সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।

১৮৭৭ সালের শেষ দিকে যন্ত্রটির কার্যকর নমুনা তৈরি হয়। সেটি শুধু কথা রেকর্ড করতেই পারত না, পরে সেই শব্দ আবার বাজিয়েও শোনাতে পারত। অর্থাৎ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রথমবারের মতো তার নিজের সময়ের বাইরে গিয়ে টিকে থাকার সুযোগ পেল।

১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৮ সালে এডিসন ফনোগ্রাফের পেটেন্ট পান।

ফনোগ্রাফ তখন বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। কিন্তু এর মধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল ভবিষ্যতের একটি বিশাল শিল্পের ভিত্তি। পরে গ্রামোফোনসহ আরও উন্নত শব্দ ধারণ ও বাজানোর প্রযুক্তি আসে। শেষ পর্যন্ত এই ধারাই সংগীত রেকর্ডিং শিল্পের পথ তৈরি করে।

গাড়ি: ঘোড়ার বদলে নিজের শক্তিতে চলবে যে যান

এবার প্রশ্ন উঠল অন্য জায়গায়।

ট্রেন চলছে, জাহাজ চলছে। কিন্তু এমন একটি ছোট যান কি তৈরি করা সম্ভব, যা নিজের শক্তিতে রাস্তায় চলবে?

এই ধারণা নিয়ে ইউরোপে বহু বছর ধরেই পরীক্ষা চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় জার্মান প্রকৌশলী কার্ল বেঞ্জ ১৮৮৬ সালে গ্যাসচালিত অটোমোবাইলের পেটেন্ট করেন। তার তিন চাকার যানটির নাম ছিল ‘পেটেন্ট মোটর কার নম্বর ১’।

বেঞ্জের আগে আরও কয়েকজন উদ্ভাবক চাকার সঙ্গে গ্যাসচালিত ইঞ্জিন যুক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাদের তৈরি যান ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়নি। বেঞ্জ এমন এক সময়ে তার গাড়ি তৈরি করেন, যখন হালকা ও নিজে চলতে পারে এমন যান নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছিল। একই সময়ে সাইকেলও জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল।

বেঞ্জের প্রথম গাড়িতে ছিল চার-স্ট্রোকের ০.৭৫ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন। সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১০ মাইলেরও কম। তিনটি কাঠের চাকার সঙ্গে ছিল স্টিলের স্পোক, পাতলা রাবারের টায়ার, চামড়ায় মোড়ানো ব্রেক এবং হাত দিয়ে পরিচালিত উল্লম্ব স্টিয়ারিং কলাম।

কিন্তু একটি নতুন যন্ত্র তৈরি করলেই তো মানুষ সেটিকে বিশ্বাস করতে শুরু করে না।

সেই কাজটি অনেকটা করে দেখালেন বেঞ্জের স্ত্রী বার্টা।

১৮৮৮ সালে তিনি তার দুই কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বেঞ্জের গাড়িতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। প্রায় ১২১ মাইলের এই যাত্রা ছিল গাড়িতে প্রথম দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণগুলোর একটি। এই যাত্রা প্রমাণ করেছিল, গাড়ি শুধু পরীক্ষাগারের অদ্ভুত একটি যন্ত্র নয়, বাস্তব পথেও ব্যবহার করা সম্ভব।

এরপর গাড়ি আর শুধু উদ্ভাবনের বিষয় থাকল না। ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠল মানুষের চলাচল ও শহরের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার শক্তি।

ক্যামেরা: ছবি তোলা আর শুধু পেশাদারদের কাজ নয়

ক্যামেরা বা ফটোগ্রাফি অবশ্য গিল্ডেড এজে প্রথম আবিষ্কৃত হয়নি। জর্জ ইস্টম্যানের জন্মেরও আগে ছবি তোলার প্রযুক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়।

তখন ছবি তুলতে বড় ও ব্যয়বহুল ক্যামেরা ব্যবহার করতে হতো। ক্যামেরায় ভঙ্গুর কাচের প্লেট লাগত এবং ছবি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সাধারণত পেশাদার ফটোগ্রাফারের প্রয়োজন হতো। ফলে ফটোগ্রাফি ছিল সীমিত মানুষের নাগালের একটি প্রযুক্তি।

১৮৮৮ সালে জর্জ ইস্টম্যান সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেন।

তার তৈরি কোডাক ক্যামেরা ছিল ছোট বাক্সের মতো। দাম ছিল ২৫ ডলার। ক্যামেরার ভেতরে আগে থেকেই ১০০টি ছবি তোলার উপযোগী নমনীয় কাগজের ফিল্ম লাগানো থাকত। পরে কোডাক সেলুলয়েড উপাদান ব্যবহার করতে শুরু করে।

ব্যবহারও ছিল তুলনামূলক সহজ।

ক্যামেরা দিয়ে যে বিষয়টির ছবি তুলতে হবে, সেটির দিকে তাক করে শাটার চাপতে হতো। এরপর একটি চাবি ঘুরিয়ে পরের ছবির জন্য ফিল্ম এগিয়ে নেওয়া যেত।

ফিল্ম শেষ হয়ে গেলে পুরো ক্যামেরাটিই কোডাক কারখানায় পাঠানো হতো। ১০ ডলারের বিনিময়ে গ্রাহক পেতেন ১০০টি প্রিন্ট, নেগেটিভ এবং নতুন ফিল্ম।

কোডাকের সেই সময়ের স্লোগান ছিল, ‘আপনি বোতাম চাপুন, বাকিটা আমরা করব।’

এর ফলে ছবি তোলা ধীরে ধীরে শুধু পেশাদারদের কাজ থাকল না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তও ক্যামেরায় ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হলো।

ফটোগ্রাফি হয়ে উঠতে শুরু করল সাধারণ মানুষের স্মৃতি ধরে রাখার মাধ্যম।

বৈদ্যুতিক ট্রাম: শহর এবার ছড়িয়ে পড়বে

উনিশ শতকের শুরুতে শহরের গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল ঘোড়ায় টানা স্ট্রিটকার ও ট্রলি। ১৮৩০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এগুলোর ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বিদ্যুৎ এসে সেই ব্যবস্থাকেই বদলে দিল।

১৮৮১ সালে জার্মান প্রকৌশলী ওয়ার্নার ফন সিমেন্স বার্লিনের উপকণ্ঠে প্রথম বৈদ্যুতিকচালিত স্ট্রিটকার তৈরি করেন। এর ১০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন ওপরের বৈদ্যুতিক তার থেকে শক্তি নিত। এতে সর্বোচ্চ ৫০ জন যাত্রী বহন করা যেত এবং গতি উঠত ঘণ্টায় ১২ মাইল পর্যন্ত।

তবে পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক ট্রলি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন মার্কিন প্রকৌশলী ফ্র্যাঙ্ক স্প্র্যাগ।

১৮৮৮ সালে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে তিনি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক ট্রলি ব্যবস্থা তৈরি করেন। রিচমন্ড ইউনিয়ন প্যাসেঞ্জার রেলওয়ে পরে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক ট্রলি ব্যবস্থা তৈরির মডেল হয়ে ওঠে। ১৮৮০-এর দশকের শেষভাগ ও ১৮৯০-এর দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ১১০টির বেশি বৈদ্যুতিক ট্রলি ব্যবস্থা তৈরি হয়।

এর প্রভাব শুধু যাতায়াতের ওপর পড়েনি।

ট্রামলাইন যেখানে গেছে, তার আশপাশে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করেছে। শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে থাকা মানুষও সহজে শহরের কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারছিলেন।

ফলে শহর শুধু বড় হয়নি। শহরের নকশাই বদলে যেতে শুরু করল।

বিমান: এবার মাটি ছেড়ে আকাশে

মানুষ মাটিতে গাড়ি চালাতে শিখল। শহরের ভেতর বিদ্যুৎচালিত ট্রামে চলতে শিখল। কিন্তু সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি তখনও বাকি।

মানুষ কি আকাশে উড়তে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডেটন, ওহাইওর দুই ভাই উইলবার ও অরভিল রাইট এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করলেন। দুজনেরই কলেজ ডিগ্রি ছিল না। তারা সাইকেল বিক্রি ও মেরামতের ব্যবসা করতেন। কিন্তু উড়োজাহাজ নিয়ে তাদের আগ্রহ ছিল গভীর।

তারা জার্মান প্রকৌশলী অটো লিলিয়েনথালের গ্লাইডার পরীক্ষাসহ আগের গবেষণা থেকে ধারণা নেন। নিজেদের ডেটনের সাইকেলের দোকানে তারা উইন্ড টানেল তৈরি করে ডানার বিভিন্ন নকশা পরীক্ষা করেন।

এরপর পূর্ণ আকারের গ্লাইডার নিয়ে পরীক্ষা চালাতে তারা নর্থ ক্যারোলাইনার কিটি হকে যান। সেখানে নিয়মিত ও শক্তিশালী বাতাস তাদের পরীক্ষার জন্য উপযোগী ছিল।

রাইট ভাইদের বড় সাফল্য শুধু একটি ইঞ্জিন বসানো নয়। তারা উড়োজাহাজকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই সমস্যার সমাধানেও কাজ করেছিলেন। ডানার আকৃতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে তাদের পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর উড়োজাহাজ তৈরির পথ খুলে দেয়।

তারপর আসে ১৭ ডিসেম্বর ১৯০৩।

সেদিন অরভিল রাইট তাদের ‘ফ্লায়ার’-এ শুয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বিমানটি একটি গাইডিং রেল ধরে এগিয়ে যায়।

তারপর মাটি ছেড়ে আকাশে ওঠে।

প্রথম উড্ডয়ন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১২ সেকেন্ড। বিমানটি প্রায় ১২০ ফুট দূরে গিয়ে অবতরণ করে। সেদিন তারা আরও তিনটি উড্ডয়ন করেন। শেষবার উইলবার রাইট প্রায় ৫৯ সেকেন্ড উড়ে ৮৫২ ফুট পথ অতিক্রম করেন।

প্রথম উড্ডয়নটি ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। দূরত্বও ছিল খুব কম।

কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডই মানুষের যাতায়াতের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু করে।

পরে তাদের সাফল্য নিয়ে সন্দেহও তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের অনেকেই প্রথমদিকে বিষয়টি সহজে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু রাইট ভাইরা তাদের উড়োজাহাজ আরও উন্নত করতে থাকেন এবং কয়েক বছরের মধ্যেই প্রকাশ্য উড্ডয়নের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেন।

গিল্ডেড এজের দিকে ফিরে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়।

আধুনিক পৃথিবী একদিনে তৈরি হয়নি।

কখনো একটি তারের ভেতর দিয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর পাঠানোর চেষ্টা, কখনো শব্দ ধরে রাখার একটি অদ্ভুত যন্ত্র, কখনো তিন চাকার ধীরগতির গাড়ি, কখনো বাক্সের ভেতর ১০০টি ছবি তোলার ব্যবস্থা, কখনো শহরের রাস্তায় বিদ্যুতের তার ধরে চলা ট্রাম, আবার কখনো মাত্র ১২ সেকেন্ডের একটি উড্ডয়ন।

শুরুতে এগুলোর কোনোটিই আজকের রূপে ছিল না। অনেকগুলো ছিল অসম্পূর্ণ, ধীর এবং সীমিত।

কিন্তু প্রতিটি পরীক্ষাই পরের আবিষ্কারের জন্য একটি দরজা খুলে দিয়েছিল।

টেলিফোন দূরত্বকে ছোট করেছে। ফনোগ্রাফ শব্দকে সময়ের মধ্যে ধরে রেখেছে। গাড়ি মানুষের চলাচলের ধারণা বদলেছে। কোডাক ছবি তোলাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে এসেছে। বৈদ্যুতিক ট্রাম শহরের বিস্তার বদলে দিয়েছে। আর রাইট ভাইদের বিমান মানুষকে মাটি থেকে আকাশের দিকে নিয়ে গেছে।

এই কারণেই ইতিহাসে বড় পরিবর্তনের গল্প শুধু বড় আবিষ্কারের গল্প নয়। অনেক সময় ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার শুরু হয় একটি ছোট পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।


ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ১১-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২৮-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২১-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা|
  •  ১৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ০৬-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

  • নিশাত সাবা|
  •  ০২-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩.৮

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।