দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব


  • জীবনজয়ী ডেস্ক   ঢাকা, বাংলাদেশ |
  • প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯
দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব
ছবি: এআই

কখনো কখনো বড় কোনো আবিষ্কারের পেছনে থাকে না দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বা নিখুঁত কোনো গবেষণার ফল। বরং একটি ভুল, একটি দুর্ঘটনা কিংবা একেবারে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা থেকেই জন্ম নিতে পারে এমন কিছু, যা বদলে দেয় কোটি কোটি মানুষের জীবন।

পেনিসিলিন থেকে শুরু করে স্মোক ডিটেক্টর, ভেলক্রো, ডায়নামাইট, ওয়ারফারিন, দিয়াশলাই এবং কোকা-কোলা। এসব উদ্ভাবনের পেছনের গল্পগুলোও ঠিক তেমনই বলছে হিস্ট্রি ডট কম। চলুন জানা যাক, কীভাবে দুর্ঘটনা, কাকতালীয় ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে জন্ম নিয়েছিল এসব বহুল ব্যবহৃত আবিষ্কার। 

১. পেনিসিলিন

বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন। সংক্রমণ ও নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে এটি বাঁচিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। অথচ এর আবিষ্কারের শুরুটা হয়েছিল একটি অগোছালো ল্যাবরেটরিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে পড়া ছত্রাক থেকে।

১৯২৮ সালে লন্ডনের ব্যাকটেরিয়াবিদ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছুটি কাটিয়ে নিজের ল্যাবে ফিরে দেখলেন, একটি পেট্রি ডিশে ছত্রাক জন্মেছে। এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত দূষণের ফল। কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল করে ফ্লেমিং দেখলেন, ছত্রাকটির চারপাশের এলাকায় কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই।

তিনি বুঝতে পারলেন, ওই ছত্রাক এমন একটি পদার্থ তৈরি করছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। যে ছত্রাক থেকে এই আবিষ্কার, তার বৈজ্ঞানিক নাম Penicillium notatum। সেই নাম থেকেই ফ্লেমিং এর ব্যাকটেরিয়া-ধ্বংসকারী পদার্থটির নাম দেন ‘পেনিসিলিন’। ১৯২৯ সালে তিনি এ আবিষ্কার নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

তবে তখনও ফ্লেমিং নিশ্চিত ছিলেন না, এটি বাস্তবে ওষুধ হিসেবে কতটা কার্যকর হবে। কারণ পেনিসিলিনকে বিশুদ্ধ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রাখা ছিল বেশ কঠিন।

প্রায় এক দশক পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন রসায়নবিদ ফ্লেমিংয়ের গবেষণাপত্রটি পড়েন এবং পেনিসিলিনকে কার্যকর ওষুধে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ১৯৪০ সালে প্রথমবার এটি একজন রোগীর ওপর পরীক্ষা করা হয়। আর ১৯৪২ সাল থেকে পেনিসিলিনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।

আজ পেনিসিলিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি।

২. স্মোক ডিটেক্টর

বাড়ি কিংবা অফিসে স্মোক ডিটেক্টর এখন এতটাই পরিচিত যে এর গুরুত্ব অনেক সময় আমাদের চোখেই পড়ে না। অথচ এই ছোট্ট যন্ত্রটি অগ্নিকাণ্ডে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। একটি কার্যকর স্মোক ডিটেক্টর থাকা কোনো বাড়িতে আগুনে মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিতে পারে।

এর পেছনে রয়েছে সুইস পদার্থবিজ্ঞানী ওয়াল্টার ইয়েগারের একটি অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার।

১৯৩০-এর দশকে ইয়েগার এমন একটি সেন্সর তৈরির চেষ্টা করছিলেন, যা বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করতে পারবে। কিন্তু তার তৈরি যন্ত্রটি বিষাক্ত গ্যাসের বদলে অন্য কিছু শনাক্ত করল। সেটি ছিল তার সিগারেটের ধোঁয়া!

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাই পরবর্তীতে আধুনিক স্মোক ডিটেক্টর তৈরির পথ খুলে দেয়।

১৯৫০-এর দশক থেকে শিল্পকারখানা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনায় স্মোক ডিটেক্টর বসানো শুরু হয়। কিন্তু তখন এর দাম এত বেশি ছিল যে সাধারণ বাড়িতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

১৯৭০-এর দশকে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এর দাম অনেক কমে আসে। ১৯৭৭ সালেই ১ কোটি ২০ লাখের বেশি স্মোক ডিটেক্টর বিক্রি হয়।

আজ বিশ্বের বহু বাড়িতে এই ছোট্ট যন্ত্রটি অগ্নিকাণ্ডের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

৩. ভেলক্রো

জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে এখন ভেলক্রো এতটাই পরিচিত যে এর পেছনের গল্পটি জানলে অবাক হতে হয়।

সুইস প্রকৌশলী জর্জ দ্য মেসত্রাল এমন একটি বন্ধনী আবিষ্কারের পরিকল্পনা করেননি, যা একসময় মহাকাশযানেও ব্যবহৃত হবে।

১৯৪১ সালে নিজের কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখলেন, তার কাপড় এবং কুকুরের শরীরজুড়ে ছোট ছোট কাঁটাযুক্ত বীজ আটকে আছে। বিষয়টি তাকে কৌতূহলী করে তোলে।

ভালোভাবে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ওই বীজের কাঁটাগুলো আসলে ছোট ছোট হুকের মতো। সেগুলো তার কাপড়ের তন্তু এবং কুকুরের লোমের সঙ্গে আটকে যাচ্ছে।

এই প্রাকৃতিক ঘটনাটিই তাকে এমন একটি কাপড় তৈরির ধারণা দেয়, যেখানে এক পাশে থাকবে ছোট ছোট হুক এবং অন্য পাশে থাকবে লুপ।

নিজের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে তার ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। অবশেষে ১৯৫৫ সালে তিনি এর পেটেন্ট পান।

‘ভেলক্রো’ নামটি এসেছে দুটি ফরাসি শব্দ, velours অর্থাৎ মখমল এবং crochet অর্থাৎ হুক, থেকে। নামটি ফরাসি হলেও উদ্ভাবনটি তৈরি হয়েছিল নাইলন দিয়ে।

শুরুতে ফ্যাশন দুনিয়া খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু নাসা দ্রুত এর ব্যবহার শুরু করে। মহাকাশচারীদের স্পেস স্যুট এবং স্পেস শাটলেও ভেলক্রো ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই অনেকের ধারণা, ভেলক্রো বুঝি নাসার আবিষ্কার। আসলে তা নয়।

আজ পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ি থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভেলক্রোর ব্যবহার রয়েছে।

আর মজার বিষয় হলো, বহু বছর গবেষণার পর ২০২১ সালে বিজ্ঞানীরা ভেলক্রোর শব্দ কমানোর উপায়ও বের করেন।

৪. ডায়নামাইট

দুর্ঘটনাজনিত আবিষ্কারের গল্প সবসময় আনন্দের হয় না। ডায়নামাইটের ইতিহাস তারই একটি উদাহরণ।

১৮৪৭ সালে ইতালীয় রসায়নবিদ আসকানিও সোবরেরো গ্লিসারলের সঙ্গে নাইট্রিক ও সালফিউরিক অ্যাসিড মিশিয়ে নাইট্রোগ্লিসারিন তৈরি করেন। এটি ছিল গানপাউডারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অত্যন্ত অস্থিতিশীল একটি বিস্ফোরক পদার্থ।

সোবরেরো এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু তার ল্যাবের সহকর্মী আলফ্রেড নোবেল এতে বাণিজ্যিকভাবে বিস্ফোরক তৈরির সম্ভাবনা দেখতে পান।

১৮৬৭ সালে নোবেল সিলিকা পাউডারের সঙ্গে নাইট্রোগ্লিসারিন মিশিয়ে সেটিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল করেন এবং ডায়নামাইট তৈরি করেন। তবে এর আগে তার কারখানা দুবার বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আজ আলফ্রেড নোবেলকে সবচেয়ে বেশি মনে করা হয় নোবেল পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। কিন্তু তার বিপুল সম্পদের বড় একটি অংশ এসেছিল এই পেটেন্ট করা বিস্ফোরক বিক্রি থেকে।

আর যার আবিষ্কার থেকে এই পথের শুরু, সেই সোবরেরো নিজের আবিষ্কারের পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নাইট্রোগ্লিসারিনের বিস্ফোরণে নিহত মানুষ ও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কথা ভাবলে নিজেকে এর আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকার করতেও তার প্রায় লজ্জা লাগে।

৫. রক্ত পাতলা করার ওষুধ ওয়ারফারিন

ওয়ারফারিনের গল্প শুরু হয়েছিল কোনো গবেষণাগারে নয়, একটি খামারে।

১৯২০-এর দশকে কানাডায় গরু ও ভেড়া ছাঁচ ধরা মিষ্টি ক্লোভার-ঘাস খাওয়ার পর অস্বাভাবিকভাবে রক্তক্ষরণে মারা যেতে শুরু করে। এমনকি আগে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা প্রাণীরাও সামান্য চিকিৎসা পদ্ধতির পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছিল।

কানাডীয় পশুচিকিৎসক ফ্র্যাঙ্ক স্কোফিল্ড বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখেন, ছাঁচ ধরা ওই খড়ের মধ্যে এমন একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট রয়েছে, যা রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

১৯৪০ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনে বায়োকেমিস্ট কার্ল লিংকের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা ওই ছাঁচ ধরা খড়ের অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট যৌগটি আলাদা করতে সক্ষম হন।

পরে এর একটি শক্তিশালী ডেরিভেটিভের পেটেন্ট করা হয় ‘ওয়ারফারিন’ নামে। নামটি এসেছে উইসকনসিন অ্যালামনাই রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা ‘ওয়ারফ’-এর নাম থেকে, যারা এর উন্নয়ন কাজে অর্থায়ন করেছিল।

তবে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে ওয়ারফারিনের আরেকটি পরিচয় ছিল। এটি ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১৯৪৮ সালে এটি ইঁদুরনাশক হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন পায়। পরে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এটি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে শুরু করে।

এর প্রথম দিকের রোগীদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার। ১৯৫৫ সালে তার হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় ওয়ারফারিন ব্যবহার করা হয়েছিল।

৬. দিয়াশলাই

চার্লস ডারউইনের মতে, ভাষার পর মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল আগুন। আর আগুন আবিষ্কারের পর থেকেই মানুষ সেটিকে আরও সহজে জ্বালানোর উপায় খুঁজে এসেছে।

ঘর্ষণ দিয়াশলাই আবিষ্কারের আগে আগুন জ্বালাতে সাধারণত চকমকি পাথর ও ইস্পাত কিংবা ফায়ার ড্রিল ব্যবহার করা হতো। দুটিই ছিল তুলনামূলকভাবে কষ্টসাধ্য পদ্ধতি।

এরপর আসে রাসায়নিক দিয়াশলাইয়ের যুগ।

১৮২৯ সালে তৈরি হয়েছিল ‘প্রমিথিউস ম্যাচ’, যার মধ্যে সালফিউরিক অ্যাসিডের একটি ছোট কাচের শিশি কাগজ দিয়ে মোড়ানো থাকত। কাচের শিশিটি ভেঙে দিলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দিয়াশলাই জ্বলে উঠত।

কিন্তু প্রায় একই সময়ে ব্রিটিশ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার কাজ করছিলেন বিভিন্ন রাসায়নিক নিয়ে। একদিন তিনি ভুল করে রাসায়নিক মাখানো একটি কাঠি চুলার পাশে ঘষে ফেলেন। আর তখনই কাঠিটি আগুন ধরে যায়।

এই ঘটনাই ওয়াকারকে নতুন ধারণা দেয়।

১৮২৭ সালে তিনি নিজের ফার্মেসি থেকে ‘কনগ্রিভস’ নামে দিয়াশলাই বিক্রি শুরু করেন। কাঠির বদলে এগুলো ছিল কার্ডবোর্ডের তৈরি এবং এতে পটাশিয়াম ক্লোরেট ও অ্যান্টিমনি সালফাইডের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছিল। বালুর কাগজের ওপর ঘষলে এগুলো জ্বলে উঠত।

ওয়াকারের আবিষ্কার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু তিনি এর পেটেন্ট নেননি। ফলে অন্যরা তার নকশা নকল করে নিজেদের নামে দিয়াশলাই বিক্রি করতে শুরু করে।

১৮৫৯ সালে ওয়াকার মারা যাওয়ার অনেক পরে তাকে প্রথম ঘর্ষণ দিয়াশলাইয়ের উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৭. কোকা-কোলা

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কোমল পানীয় কোকা-কোলার শুরুটাও হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উদ্দেশ্য থেকে।

১৮৬৬ সালে মার্কিন ফার্মাসিস্ট জন পেমবার্টন একটি ব্যথানাশক ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। আমেরিকান গৃহযুদ্ধে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি মরফিনে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই আসক্তি কাটাতে তিনি আফিমজাত উপাদানমুক্ত একটি কার্যকর বিকল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

তার প্রথম পণ্যটির নাম ছিল ‘পেমবার্টনস ফ্রেঞ্চ ওয়াইন কোকার’। এতে এমন কিছু উপাদান ছিল, যা আজকের কোকা-কোলার রেসিপিতে কল্পনাও করা যায় না।

এতে ছিল কোকা গাছের পাতা থেকে পাওয়া উপাদানযুক্ত কোকা ওয়াইন এবং কোলা বাদাম, যাতে ক্যাফেইন রয়েছে।

তার ‘ফ্রেঞ্চ ওয়াইন’ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু ১৮৮৬ সালে পেমবার্টনের নিজ রাজ্য জর্জিয়ায় মদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে তাকে অ্যালকোহলমুক্ত একটি বিকল্প তৈরি করতে হয়।

তিনি ওয়াইনের বদলে চিনির সিরাপ ব্যবহার শুরু করেন। আর নতুন ফর্মুলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় তার মিশ্রণটি দুর্ঘটনাবশত কার্বনেটেড পানির সঙ্গে মিশে যায়।

পেমবার্টন পানীয়টি পান করে বুঝতে পারেন, এটি ওষুধের চেয়ে বরং একটি চমৎকার কোমল পানীয় হতে পারে। এরপর তিনি এটিকে ফাউন্টেন ড্রিংক হিসেবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেন।

মূল উপাদান ‘কোকা’ ও ‘কোলা’ থেকেই নাম দেন ‘কোকা-কোলা’।

তবে নিজের আবিষ্কারের সাফল্য দেখার সুযোগ পেমবার্টনের খুব বেশি দিন হয়নি। তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে এবং মরফিনের ওপর নির্ভরতাও বাড়তে থাকে। আবিষ্কারের মাত্র দুই বছর পর তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে মারা যান।

এর আগেই তিনি নিজের কোকা-কোলার শেয়ার ব্যবসায়িক অংশীদার আসা গ্রিগস ক্যান্ডলারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পরে ক্যান্ডলার কোকা-কোলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল কোম্পানিতে পরিণত করেন।

অর্থাৎ, আজ যে পেনিসিলিন কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যে ভেলক্রো মহাকাশযানে পৌঁছে গেছে, যে স্মোক ডিটেক্টর আগুনের আগাম সতর্কতা দেয় কিংবা যে কোকা-কোলা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়, এসবের গল্পের শুরু কিন্তু ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একেবারে অন্যরকম।

কখনো একটি ভুল, কখনো কৌতূহল, কখনো দুর্ঘটনা, আবার কখনো এমন কোনো ঘটনা, যার ফল কী হতে যাচ্ছে, তা সেই মুহূর্তে কেউই কল্পনা করতে পারেনি।


ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

প্রাচীন সভ্যতার ৮ আবিষ্কার, যেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ১১-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল আধুনিক বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২৮-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার: যেভাবে হঠাৎ পাওয়া জিনিস বদলে দিয়েছে বিশ্ব

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ২১-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

রোমুলাস, রেমাস ও খালিসি: ডায়ার উলফ কি এরা

  • জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা|
  •  ১৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

এবার এআই নিজেই করবে ল্যাব পরীক্ষা

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ০৬-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

মগজের পচন যেভাবে ঠেকানো যায়

  • নিশাত সাবা|
  •  ০২-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

৩.৮

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।