‘ব্রেইন রট’ শব্দটি ২০২৪ সালে অক্সফোর্ড ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার হিসেবে ঘোষিত হয়। এটি মানুষের মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়কে বোঝায়। অতিরিক্ত সময় ধরে নিম্নমানের ও বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জহীন অনলাইন কনটেন্ট গ্রহণের ফলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জেন জেড ও জেন আলফা প্রজন্মের মধ্যে শব্দটি জনপ্রিয়। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ‘ব্রেইন রট’ শব্দটির ব্যবহার ২৩৫ শতাংশ বেড়েছে। হেলথ ডটকম, নিউরোসিটি ক্রাউনসহ বিভিন্ন উৎস অবলম্বনে লিখিত জীবনজয়ীর প্রতিবেদনটি নিচে পড়ুন।
শব্দটির প্রথম ব্যবহার পাওয়া যায় ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত হেনরি ডেভিড থোরোর ওয়ালডেন বইয়ে। সেখানে তিনি সমাজে গভীর চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা কমে যাওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং একে ব্রেইন রটের লক্ষণ হিসেবে দেখেন।
বর্তমানে ‘ব্রেইন রট’ শুধু ব্যঙ্গাত্মক শব্দ নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইনে নিম্নমানের কনটেন্টের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অক্সফোর্ড ল্যাঙ্গুয়েজেস জানিয়েছে, জেন জেড ও জেন আলফা কমিউনিটিতে শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয়। তাদের মতে, ভার্চ্যুয়াল জীবন ও প্রযুক্তির মানবিক প্রভাব নিয়ে আলোচনায় ‘ব্রেইন রট’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
অতিরিক্ত অনলাইন কনটেন্ট গ্রহণের কারণে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের। তাই ‘ব্রেইন রট’ থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা, সঠিক কনটেন্ট নির্বাচন এবং প্রযুক্তির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার জরুরি।
ব্রেইন রট প্রতিরোধের উপায়
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করুন এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করুন: প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমায় এবং মনোযোগ বাড়ায়।
মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: কর্মক্ষেত্রে ভয় বা অনিশ্চয়তা মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা কমায়। মানসিকভাবে নিরাপদ পরিবেশ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
শারীরিক ব্যায়াম করুন: নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন: প্রতিদিন বই পড়া গভীর চিন্তা, মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়ায়। গল্প, উপন্যাস ও তথ্যভিত্তিক বই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং ডিজিটাল জীবনের কোলাহল থেকে প্রশান্তি দেয়।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: প্রতি রাতে ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করুন।
নতুন দক্ষতা শিখুন: নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বা প্রযুক্তি শেখা মস্তিষ্কে নতুন নিউরোনাল সংযোগ তৈরি করে এবং একে সক্রিয় রাখে।
জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনুন: অতিরিক্ত মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে এক সময়ে একটি কাজ করুন। এ ক্ষেত্রে পোমোদোরো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
পোমোদোরো পদ্ধতি:
কাজটি নির্ধারণ করুন।
২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন।
৫ মিনিট বিরতি নিন।
চারবার এভাবে কাজ করার পর ৩০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি নিন।
প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন: ছুটির দিনে পার্ক বা গ্রামে সময় কাটান। প্রকৃতি মানসিক চাপ কমায় ও মনোযোগ বাড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিন। এতে মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন: বাদাম, ফলমূল, শাকসবজি ও মাছ মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এবং এর কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
দৈনন্দিন জীবনে সচেতন পরিবর্তন এনে, প্রযুক্তির ব্যবহারে ভারসাম্য বজায় রেখে এবং সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করলে ‘ব্রেইন রট’ বা মগজের পচন প্রতিরোধ করা সম্ভব।