সাময়িকী

বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটদের চেনেন আপনি?


  • নাবিলা তাসনিম স্নেহা  |
  • প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:২২
বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটদের চেনেন আপনি?
ছবি: আল মামুন খান এমিল

বিটিএস নামটির পূর্ণরূপ ‘ব্যাংটান সোনিয়নদান’ (Bangtan Sonyeondan) (BTS)। এর ইংরেজি অর্থ ‘বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটস’। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি বার্তা। তরুণদের ওপর আসা নেতিবাচক সমালোচনা, সামাজিক চাপ ও বাধার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীক। ২০১৭ সালে দলটি তাদের নামের আরেকটি ব্যাখ্যা সামনে আনে, ‘বিয়ন্ড দ্য সিন’, অর্থাৎ সীমাবদ্ধতার বাইরে এগিয়ে যাওয়া। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানের অধীনে যাত্রা শুরু করে সাত সদস্যের এই দল। এরা হচ্ছে আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, পিপল ও আল জাজিরা থেকে নেওয়া তথ্য অবলম্বনে পড়ুন জীবনজয়ী প্রতিবেদন।

এই সাত তরুণ শুরু থেকেই খ্যাতিমান তারকা ছিলেন না। এদের বেশির ভাগ সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাদের পথচলা শুরু হয়। সে সময় কে-পপ জগতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য ছিল। ফলে নতুন একটি দলের জন্য জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না।

বিটিএসের অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠার কারণ তাদের গান। তারা শুধু বিনোদন দিতে চায়নি, বরং তরুণদের বাস্তব জীবনের গল্প বলতে চেয়েছে। তাদের গানে উঠে এসেছে পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মপরিচয়ের সংকট, ব্যর্থতার ভয় এবং নিজেকে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা। অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের অনুভূতির প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছে বিটিএসের কথা ও সুরে। এ কারণেই বিটিএসের সঙ্গে ভক্তদের সম্পর্ক শুধু শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আবেগের বন্ধনে পরিণত হয়েছে। দলের জনপ্রিয়তা দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউবে তাদের একের পর এক গান প্রকাশিত হতে থাকে। ‘বয় উইথ লাভ’, ‘ডায়নামাইট’ ও ‘বাটার’-এর মতো গান বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ‘ডায়নামাইট’ ও ‘বাটার’ বিটিএসকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে ভাষা আর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

[এখানে পড়ুন: ম্যাডোনার চোখে মাইকেল] 

বিটিএসের ভক্তরা ‘আর্মি’ নামে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এই বিশাল ভক্তগোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিটিএসকে ঘিরে এক অনন্য কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। নতুন গান প্রকাশ, সামাজিক উদ্যোগ কিংবা মানবিক কর্মকাণ্ড, সব ক্ষেত্রেই আর্মির সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়। এই ভক্তগোষ্ঠী বিটিএসের সব ইতিবাচক কাজকর্ম বিভিন্নভাবে প্রচার করে থাকে।

বিটিএসের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ। তারা ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে ‘লাভ মাইসেলফ’ কর্মসূচি চালু করে, যার লক্ষ্য শিশু ও কিশোরদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন বিটিএসের সদস্যরা। তারা নিজেদের জনপ্রিয়তাকে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য নয়, ইতিবাচক সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতেও ব্যবহার করেছেন।

২০২২ সালে দলটি একবার সাময়িক বিরতিতে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিটিএসের সদস্যদের একে একে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করা একটি দলের জন্য এটি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ভক্তের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, সব সদস্য দায়িত্ব শেষ করে ফিরে এলে কি আগের মতো জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবেন তারা?

কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে যে বিটিএসের প্রভাব সাময়িক নয়। সামরিক দায়িত্ব শেষ করে বিটিএসের সদস্যরা আবার একত্রিত হন। ২০২৬ সালে নতুন অ্যালবাম ও বিশ্ব সফরের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তন করেন। তাদের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। সিউলে আয়োজিত অনুষ্ঠান ও কনসার্ট ঘিরে লাখো মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়, যা দেশটির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

[এখানে পড়ুন: বব মার্লের নাইন মেইল গ্রাম] 

বিশ্লেষকদের মতে, বিটিএস দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’-এর অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। তাদের কারণে বিশ্বের বহু মানুষ কোরিয়ান ভাষা, খাবার, পোশাক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ একটি সংগীত দল শুধু গান দিয়েই নয়, একটি দেশের সংস্কৃতিকেও যে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তুলতে পারে, বিটিএস তার বড় উদাহরণ।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যান্ড বিটিএসের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি। ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের গর্বের সঙ্গে ‘বিটিএস আর্মি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। 

বিটিএসের সাফল্য অচিন্তনীয় হলেও দলটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। অতিমাত্রার ভক্ত-সংস্কৃতি এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের মতো বিষয় উল্লেখ করে অনেকে বিটিএসের সমালোচনা করেন। 


ক্যাটাগরি: সাময়িকী

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

নারীর হাত ধরে খাদ্যের বিবর্তন

নারীর হাত ধরে খাদ্যের বিবর্তন

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ৩০-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

০

ফুল তরু লতা ও আমার জীবন

ফুল তরু লতা ও আমার জীবন

  • খালেদ হাসান শান্ত |
  •  ২৫-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

৫

সাবাতিনা, তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?

সাবাতিনা, তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?

  • সুমাইয়া রহমান তুলি|
  •  ২১-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

৪

বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধানদের পথচলা

বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধানদের পথচলা

  • জীবনজয়ী ডেস্ক|
  •  ১৫-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

৫

আমার সেরা তিনটি দিন

আমার সেরা তিনটি দিন

  • ইসমাইল সাব্বির|
  •  ১২-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

৫

আমার মেয়েবেলা

আমার মেয়েবেলা

  • মৌমিতা সেন |
  •  ০৯-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী

০

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।