মানুষের জীবনে আনন্দের ঘাটতি দিনকে দিন বাড়ছে। এর মধ্যে কিনা জীবনজয়ী বলছে পুরো বছরের আনন্দের সংবাদ দিন। শুরুতে ভেবে পাইনি কিছু। দিন-মাস-বছর চলে জীবনের যুদ্ধে। আনন্দ উদযাপনের সময়-সুযোগ কোথায়? লিখব লিখব ভাবি। কিন্তু কী নিয়ে? পরে ঠিক করলাম, ২০২৪ সালে আমার জীবনের তিনটি ঘটনা পাঠকদের লিখব। এই তিন ঘটনা আমার জীবনে অশেষ আনন্দের কারণ হয়েছিল।
মায়ের অনেক দিনের শখ ছিল একটা স্মার্টফোনের। চাইলে মা নিজের টাকা দিয়ে কিনতে পারতেন হয়তো, কিন্তু মা কিনতেন না। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল মাকে নিজের টাকায় ভালো কিছু একটা উপহার দিতে। রোজার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় মায়ের জন্য শখের মোবাইলটি নিয়ে গিয়েছিলাম। নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারলে সেটা সত্যিই অন্যরকম একটা অনুভূতি দেয়। হাতে মোবাইল পেয়ে মায়ের মুখে গর্বের হাসি ফুটে উঠেছিল। ছেলের আয়ের টাকার মোবাইল বলে কথা।
মে মাস। খুব গরম। এর মধ্যে বন্ধুদের মধ্যে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার আলাপ উঠল। আগে আমি কখনো মাওয়া ঘাটে যাইনি। লোকের কাছে অনেক গল্প শুনি। সবচেয়ে বেশি ইলিশ মাছের। আমরা গিয়েছিলাম সরকারি ছুটির দিনে। উপচে পড়া ভিড় সেদিন। এর মধ্যে বিপুল পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। কিছু দূরে পদ্মা সেতু। দেখে চোখের পলক পড়ে না আমার। এই সুবৃহৎ স্থাপনা আমাদের! হাঁটাহাঁটি ঘোরাঘুরি করেছি অনেকটা সময়। রাত হয়ে গেল। অতঃপর চলে এলো সে সময়টা, যার জন্য সবাই যায়। গুচ্ছের টাকা খরচ করে গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজি খেলাম সবাই মিলে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রওনা হয়ে গেলাম ঢাকার পথে। দিনটা সত্যি খুব ভালো ছিল।
আমি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার, কম্পিউটার আমার জন্য জরুরি একটা জিনিস। প্রথম কম্পিউটারটি আমি কিনেছিলাম ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে। মায়ের থেকে কিছু টাকা নিয়ে। সেটা ছিল সেকেন্ড হ্যান্ড একটি কম্পিউটার। সেই আমার ডিজাইন শেখার শুরু। তিন-চার বছর হয়ে যাওয়ার পরে পুরোনো কম্পিউটারে ভালোভাবে কাজ করা যাচ্ছিল না। বুঝতে পারছিলাম, আমার নতুন কম্পিউটার দরকার। আবার এটাও জানি যে অনেকগুলো টাকা দরকার। দোনোমনা করতে থাকি কিছুদিন। অবশেষে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে, কষ্ট করে জমানো সব টাকা দিয়ে শখের নতুন কম্পিউটারটি কিনে নিলাম। সেদিন ছিল সেপ্টেম্বরের তিন তারিখ। আমার জন্য বিশেষ আনন্দের একটি দিন।