মে মাসের ২৩ তারিখ। জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণা সেদিন তার গবেষণা দলের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের মাধবপুর লেকের দিকে। চা-বাগান, লেক, টিলা সব মিলে দস্তুরমতো দিশাহারা সৌন্দর্য। মাধবপুরের দিকে আছে মনিপুরী জাতির গ্রাম—দক্ষিণ মাঝের গাঁও। সেখানে নুংশিনীড় হোমস্টে'তে একবেলা বেড়ানোর নিমন্ত্রণ ছিল আগে থেকে। স্বর্ণারা চা-বাগান থেকে ছোট্ট দূরত্বের মধ্যেই পথ-টথ হারিয়ে, অবশেষে ঝুম বৃষ্টির মুখে ঢুকলেন ছবির মতো সুন্দর বাড়ি নুংশিনীড় হোমস্টে'তে। সেখানেই স্বর্ণার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল মীনা রানী দেবীর। জীবনজয়ীর পক্ষ থেকে তাকে কথা বলিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। মীনা দেবী তা সাদর গ্রহণ করে নেন। দুই অপরিচিত ব্যক্তির প্রথম আলাপ শুরু হলো।
কথা বলতে বলতে দুজন গ্রামের পথে হাঁটলেন, গ্রামের মন্দির দেখলেন। মীনা দেবী তার বাড়িতেও নিয়ে গেলেন স্বর্ণাকে। পরে তারা পরস্পরের ব্যাপারে নিজ-নিজ ভাবনাগুলো লিখেছেন জীবনজয়ীর জন্য।
মীনা দেবী: মেয়েটা আমার মেয়ের মতো
প্রথমে জাওয়াহ বিনতে মিজান স্বর্ণাকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
মেয়েটা আমার মেয়ের মতো, আমাদের এদিকে বেড়াতে আসছে, এভাবে অনেকে আসে।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
পরস্পরের পরিচয় দিয়ে আলাপ শুরু।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলাপ হয়েছে। আমার মেয়েও ভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছে। সেও একইভাবে চেষ্টা করছে। এসব নিয়ে আলাপ হয়েছে। দেশে থাকবে কি না সে ব্যাপারে কথা হয়েছে।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
মতের কোনো অমিল পাইনি, এক সূত্রে গাঁথা এমন মনে হয়েছে।
কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
আমাদের অর্থাৎ মনিপুরীদের প্রতি স্বর্ণার শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তরিকতা আমার ভালো লেগেছে।
স্বর্ণার কোনো বিষয়ে কী আপনি বিব্রত হয়েছিলেন?
না।
পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কী আলাপ হয়েছে?
পরিবার নিয়ে আলাপ হয়েছে। আমার পরিবারের কথা বলেছি। তার পরিবারের কথা শুনেছি।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কী ওনাকে আলাপ করাবেন?
প্রয়োজনে বন্ধুদের সঙ্গে আলাপে কোনো সমস্যা বা আপত্তি নাই।
আশাবাদী নাকি উল্টোটা বেশি লক্ষ্য করলেন?
স্বর্ণা আশাবাদী একটি মেয়ে।
মোবাইল নম্বর কী বিনিময় হয়েছে?
না।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন কী?
না।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কী?
কেন নয়! স্বর্ণা আবার এদিকে এলে দেখা হয়ে যাবে।
স্বর্ণাকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
শান্ত-শিষ্ট ও মেধাবী।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
আট বা নয় দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
যখন কেউ কিছু জানতে আসে তখন সৎভাবে সঠিক উত্তর দেওয়া উচিত। আমি সেভাবেই চেষ্টা করেছি।
স্বর্ণা: মাসির মুক্তমনা কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।
প্রথমে মীনা রানী দেবীকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
আমি আমার বয়সের কারো সঙ্গে কথা বলব ভেবেছিলাম। তাই প্রথমে মীনা মাসিকে দেখে খানিকটা অবাক হই, ভাবতে থাকি কী কথা বলব। কিন্তু পরক্ষণে মনে হয় যে, এটা একটা নতুন ধরনের আলাপ করার সুযোগ।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
প্রথমেই মাসিকে জিজ্ঞেস করি ওনার নাম কী, পরিবারে কে কে আছেন এগুলো নিয়ে। আমার পরিচয় দিই, নাম, কী করি ইত্যাদি।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
মাসি খুব সুন্দর করে ছেলেবেলার কথা বলেন। বাবা-মা, তাদের বাড়ি, তার তিন ভাই, ছেলেমেয়ে, স্বামী, বউমা, নাতি-নাতনিদের কথা বলেন। আমি শুনতে থাকি। আর মনিপুরী মানুষ যেহেতু, মীনা মাসির সঙ্গে রাস উৎসব নিয়ে অনেক কথা হয়। বর্তমানে নারীদের নিরাপত্তার অভাব, বিদেশে ছেলেমেয়ের পড়তে যাওয়া নিয়ে কথা হয় আমাদের।
আলাপকালে মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
তেমন কোনো অমিল পাইনি। বরং বর্তমান দুনিয়ার রকমসকম নিয়ে আমাদের মতের মিলই ছিল।
কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
মাসি খুব সাবলীলভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার একবারও মনে হয়নি যে এই প্রথমবার ওনার সঙ্গে কথা বলছি। এছাড়াও মাসির মুক্তমনা কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।
মীনা দেবীর কোনো কিছুতে কী বিব্রত হয়েছিলেন আপনি?
না, মাসি অনেক ফ্রেন্ডলি ছিলেন।
পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কী আলাপ হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। মাসির তিন ভাই; আর উনিই একমাত্র বোন। খুব কম বয়সে ওনার মা মারা গেছেন। বর্তমানে উনি স্বামী, মেয়ে, ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও নাতি-নাতনীদের নিয়ে ভরপুর একটি সংসার করছেন।
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে ওনাকে কী আলাপ করাবেন?
সুযোগ হলে অবশ্যই। সত্যি বলতে কী, যে কেউ মাসির সঙ্গে কথা বলে আনন্দ পাবে।
আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
আশাবাদ। অবশ্যই আশাবাদ।
মোবাইল নম্বর কী বিনিময় হয়েছে?
না। তবে আমি ওনার মোবাইল নম্বর যেকোনো সময় যোগাড় করতে পারব।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন কী?
না। ওনার ফেসবুক আছে কি না জিজ্ঞাসা করা হয়নি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কী?
হতেই পারে। আবার শ্রীমঙ্গল যাওয়া পড়লে মাসিদের ওদিকে যেতে ইচ্ছা করবেই। দেখি।
মীনা দেবীকে দুই/তিনটি শব্দে বর্ণনা করুন।
একজন হাসিখুশি, পরিষ্কার মনের অধিকারী মানুষ।
আলাপটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
সাড়ে আট নম্বর দেব।
চাইলে আরও কিছু বলুন।
বয়সের তারতম্যের জন্য হয়তো অনেক কথা চৌকাঠ পেরোতে পারেনি, তবুও মাসির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ কথা বলে আমি খুশি।