‘এবারের বড় পুজায় মহল্লায় স্টল নিতে হবে। শুধু অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।’ ‘সিজনাল ডট কম’ অফিসে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আমিনুল হক। সঙ্গে জানালেন, ‘স্টলের একটা জমকালো উদ্বোধন চাই। ব্যান্ড পার্টি, নাড়ু-মোয়া, পায়রা ওড়ানো, এসবও থাকবে। পায়রার জন্য কী করা যায়? ডিগবাজি দেওয়া পায়রা লাগবে। কমপক্ষে আট-দশ জোড়া। বাকি বিষয়গুলো আমি দেখছি।’
‘ইন্দ্রজিৎকে বলা যায়। খুব কম খরচে পায়রা দিতে পারবে। বাজারে জোড়া পায়রা দুই হাজার টাকারও বেশি। ইন্দ্র জোড়া আটশ থেকে হাজার টাকায় জোগাড় করে দিতে পারবে’, হাউসের একজন বেশ প্রত্যয়ী গলায় বললেন।
‘ইন্দ্রকে আমাদের অফিসে জয়েন করানো যায় তো। ওর কথা আমার মাথায় ছিল। ভালো করেছ নামটা মনে করিয়ে’, বললেন আমিনুল হক।
‘ভীষণ বেয়াড়া। নিয়ম-কানুনের ধার-ধারে না। সে কিসব জল-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। আর বয়সও খুব কম। ষোলো-সতেরো হবে মনে হয়।’ ধরাবাঁধা কাজকর্মের ব্যাপারে ইন্দ্রের ওপর আস্থা নেই, একটু আগে পায়রার জন্য রেফার করা কর্মীর।
চাকুরি না হোক, পায়রার জন্য ‘সিজনাল ডট কম’ অফিসে ডেকে আনা হয় ইন্দ্রকে।
‘সব শুনেছ? টাইমলি পায়রা দিতে পারবে তো? আর জোড়া কততে দিতে পারবে?’ আমিনুল হক জানতে চান।
‘আঙ্কেল, আপনি চাইলে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে একশ জোড়া পায়রা এনে দিতে পারব। আর্জেন্ট হলে খরচ বেশি।’
ইন্দ্রের কথার ধরনে হাসতে হাসতে আমিনুল হক বললেন, ‘জোড়া কত নেবে?’
‘উৎসবের সময় পায়রার চাহিদা বেশি। জোড়া প্রতি বারোশ টাকার নিচে পারা যাবে না।’
‘আমি শুনলাম, তুমি নাকি সাতশ-আটশ টাকায় জোড়া দিতে পার? ঠিক আছে, আমি না হয় জোড়া প্রতি হাজার টাকা দিচ্ছি। কী, রাজি তো?’
‘বাজারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তবু কী আর করা। মহল্লার ব্যাপার। তবে আমার একটা অনুরোধ আছে।’
‘কী অনুরোধ? বল।’ আমিনুল জানতে চাইলেন।
‘নাড়ু-মোয়া সাপ্লাই আমার পরিচিত এক মাসিকে দিতে হবে। আপনারা যে দরে কেনেন, সেটাই দেবেন। একেবারে হাতে বানানো।’
‘নাড়ু-মোয়া কিন্তু অনেক লাগবে। তোমরা, মানে তোমার মাসি পারবেন তো? কত দিন ধরে তোমার মাসি নাড়ু-মোয়া বানান?’
‘আপনাদের তো একটা স্টল। দশটা স্টল থাকলেও সাপ্লাই দেওয়া যাবে। আর কত দিন থেকে বানায় বলছিলেন না? আমাদের মা-মাসিরা আগের জন্ম থেকেই রান্নাবান্না, সেলাই-ফোঁড়াই, নাড়ু-মোয়া বানানো এসব শিখে আসে। যাকগে, কাজের কথায় আসি। পায়রার জন্য অর্ধেক অ্যাডভান্স। নাড়ু-মোয়া সাপ্লাইয়ের কোনো অ্যাডভান্স লাগবে না। বিসর্জনের পর টাকা-পয়সা বুঝিয়ে দেবেন।’
কথা ফাইনাল। আর এই নাও তোমার পায়রার অ্যাডভান্স। ইন্দ্রের কথাবার্তার ধরন দেখে বেশ মজা লাগছে আমিনুল হকের।
এখানে পড়ুন: শিউলিফুলেরা ও আমিবন্ধু ইশতি, ওরফে ইশতিয়াককে নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানার দেয়ালঘেঁষা নবাবের বাগে আসে ইন্দ্র। এখানে একটা রুমে থাকেন রহিমা বেগম ও তাঁর ছেলে রাশেদ। রাশেদ ইন্দ্রের থেকে বছর দুয়েকের ছোট। সে পড়ে ক্লাস নাইনে।
গভীর রাতে নবাবের বাগে চিড়িয়াখানার বাঘ, হাতি, জলহস্তীর ডাক শোনা যায়। এই গল্প ইশতিকে অনেক দিন আগে করেছিল ইন্দ্র। একটা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য ইন্দ্রের কাছে বায়না ধরেছে সেই দিন থেকে ইশতি। এক রাত তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দেবে, কথাও দিয়েছিল ইন্দ্র। আজ এক কাজে দু'কাজ হবে।
ইন্দ্রকে দেখে লাফালাফি শুরু করে দেয় রাশেদ।
চিৎকার দিয়ে বলে, ‘মা, দেখো, ভালো দা এসেছে।’
রহিমা বেগম জড়িয়ে ধরেন ইন্দ্রকে। বলেন, ‘কত দিন পর আসলি? কী রে, তোকে এত কালোটে আর রোগাটে দেখাচ্ছে কেন?’
‘আমার বিয়ের এখনো অনেক দেরি আছে। তত দিনে দেখবা ফরসা আর গোলগাল হয়ে যাব।’ ইন্দ্র হাসতে হাসতে জবাব দেয়।
ইশতিকে দেখিয়ে বলে, ‘এই যে আমার বন্ধু ইশতি। আজ রাতে আমরা এখানে থাকব। তুমি আর রাশেদ খাটে শোবে। আর আমি আর ইশতি বসে থাকব। বাঘ-হাতির ডাক শোনার শখ হয়েছে আমার ফ্রেন্ডের। আর মাসি, এই টাকাগুলো রাখ।’
রহিমা বেগম কিছু বলার আগে, একটু কাজ আছে বলে ইশতিকে নিয়ে বেরিয়ে আসে ইন্দ্র।
‘তুই যে বলছিলি, তুই অভাবে আছিস। রহিমা খালাকে কীভাবে এতগুলো টাকা দিলি?’ জানতে চায় ইশতি।
ইন্দ্র হাসে, ‘আরে, টাকা দেবে গৌরী সেন।’
পায়রা অর্ডারের গল্প শোনায় ইশতিকে।
‘এত কম টাকায় কীভাবে পায়রা দিবি? পায়রার কত দাম, তোর জানা আছে? ডিগবাজি খাওয়া ট্রেইনড গিরিবাজ পায়রা তুই নর্থ বেঙ্গলেও হাজার টাকা জোড়া পাবি না।’
একটু বিরক্ত স্বরে ইন্দ্র বলে, ‘থামবি! এ জন্যই তো আমার স্কুল ভালো লাগে না। তোদের মতো বুদ্ধি কমে যাবে। তোকে কে বলেছে পায়রা কিনব? পায়রা পোষেন, এমন বেশ কয়েকজন কাকার সঙ্গে আমার খুব খাতির। ওনাদের পায়রাগুলোও ভীষণ ট্রেইনড। যেখানে খুশি ছেড়ে দাও, ঠিক বাসায় ফিরে আসবে। আর অনুষ্ঠানের জন্য যারা পায়রা কেনে, ওরা তো আর পালবে-পুষবে না। ওদের কয়েক ঘন্টার জন্য পায়রা হলেই হয়।’
‘বলিস কী?’ ইশতি হতবুদ্ধি হয়ে বলে।
‘দাঁড়া, দেখ আমি কী করি’, বলে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ইন্দ্র।
এক মিনিটের মধ্যে কোনো এক কুদ্দুস কাকার সঙ্গে দশ জোড়া পায়রা নিয়ে আলাপ সেরে ফেলে ইন্দ্র।
‘কাকা, জোড়া পাঁচশ, এর বেশি কিন্তু পারব না।’
‘তোর কাছ থেকে আবার কী টাকা নেব? যা পারিস দিস।’
ইশতিকে শোনানোর জন্য মোবাইল স্পিকারে খুলে রেখেছে সে।
কথা শেষ করে বন্ধুকে নিয়ে রহিমা খালার বাসায় ফিরল ইন্দ্র। বড় পুজায় তিন মণ নাড়ু আর এক মণ মোয়ার অর্ডার আছে, জানাল রহিমা খালাকে। বাকিতে করতে হবে, পুজা শেষে টাকা পাওয়া যাবে, এটাও জানিয়ে দিল।
‘বহুদিন ধরে এই কাজ করছি, চাইলে লাখ টাকারও বাকি আনতে পারব’, আশ্বস্ত করলেন রহিমা খালা। বললেন, ‘কত দিন বাদে এলি! সেই রোজার ঈদে আসছিলি। পুজার পর বন্ধুদের নিয়ে আয়। এবারও তো তোর কাকা-কাকির সঙ্গে পুজা করবি, নাকি? সেই ভালো, বড় উৎসবে ফ্যামিলির সঙ্গে থাকা। পুজার পরপরই একদিন আমাদের সঙ্গে কাটাস।’
একটু চিন্তা করে ইন্দ্র জবাব দিল, ‘ঠিক আছে, আসব। পাঁচ-ছয় বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসব। তোমাদের সঙ্গে জম্পেশ খাওয়া-দাওয়া করব।’
বন্ধুকে নিয়ে রাতভর বাঘ ও জলহস্তীর গর্জন শুনল ইন্দ্র। দশমীর রাতে নৌকায় করে নদীতে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনার কথা সকালে নাশতা করার সময় ইশতিকে জানাল। রাশেদ বায়না ধরল, ‘ভালো দা, এবার আমাকেও তোমাদের সঙ্গে ঘুরতে নেবে।’
ইন্দ্র কড়া করে ‘না’ করে দিল।
সঙ্গে এটাও বলল, ‘তুই পড়াশোনায় কত ভালো। আমাকে দিয়ে তো আর লেখাপড়া হবে না। তুই খুব মন দিয়ে পড়বি। সামনের পরীক্ষায় ভালো করলে তোকে একটা স্মার্টফোন গিফট করব। আর ইশতি কী যেন বলে, ওই যে বন-জঙ্গল নিয়ে পড়াশোনা করা!’
ইশতি জানায়, ‘তুই কি ফরেস্ট্রি সাবজেক্টের কথা বলছিস?’
খুশিতে রাশেদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে ইন্দ্র বলে, ‘হ্যাঁ, ফরেস্ট্রি। আমাদের রাশেদ ফরেস্ট্রি পড়ে সুন্দরবনে বড় অফিসার হবে। আর আমরা মাঝে মধ্যে গিয়ে বাঘ, কুমির, হরিণ দেখে আসব।’
কথায় পেয়ে বসে ইন্দ্রকে, ‘করমজলে দেখেছি সুন্দরবনে সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কুমির চাষ হয়। ইশতি, তুই কী মনে করিস? আমার মনে হয়, আমাদের দেশে ব্যাঙ চাষ করা উচিত। ব্যাঙের খাবার তো মশা। দেখ, কীভাবে মশার রোগ বাড়ছে। যদি অনেক ব্যাঙ থাকত, তাহলে মনে হয় এভাবে ডেঙ্গু ছড়াত না। ডেঙ্গুতে কীভাবে শিশুরা মারা যায়!’
একটু পরে আবার রাশেদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে ইন্দ্র বলে, ‘তুই তো বড় অফিসার হবিই। আর তখন আমাকে ব্যাঙ চাষের ব্যবস্থা করে দিবি।’
ইন্দ্রর বকাবকানিতে মাথা ধরে যায় ইশতির। এতো দেখা যাচ্ছে কুমির, ব্যাঙ কিছু ছাড়বে না। ইন্দ্র জন্য তার বড় মায়া। সাত বছর আগে মাকে হারিয়েছে ইন্দ্র। সংসারে মন টেকেনি তার বাবার। ঘুরে বেড়ান তীর্থে তীর্থে। ছেলের ভার দিয়ে গেছেন ছোট ভাই আর তার স্ত্রীর ওপর। স্কুল ফাঁকি দেওয়া উড়নচণ্ডী স্বভাবের ভাইপোকে ঘরমুখো করতে চেষ্টার কমতি নেই কাকা-কাকির। তাদের খুব ভয়, ইন্দ্র তার বাবার মতো সংসারবিবাগী না হয়ে যায়!
কড়া করে ইন্দ্রের কাকী বলে দিয়েছেন, ‘এবার পুজোর সময় কোথাও যাওয়া চলবে না। তোর তো আবার মতির ঠিক নাই।’
কাকীর হাত ধরে ইন্দ্র বলেছে, ‘বড় পুজার সময় কি আমি কোথাও যাই? বাসায় থাকব। তবে বিসর্জন শেষে সারা রাত বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ঘুরব।’
অষ্টমীর সন্ধ্যায় ফাহিম, আরশাদ, জন ডি কস্টা, ইশতিসহ বন্ধুরা আসে ইন্দ্রের বাড়িতে। টেবিল ভর্তি করে নানা পদের মিষ্টি দেন কাকিমা। নাড়ু, মুড়ি, হাতি-ঘোড়ার ছাঁচ, বাতাসা, কদমা সমানে খেয়ে যাচ্ছে জন আর আরশাদ।
ইশতি ধমক দিয়ে বলে, ‘তোরা মিষ্টি খাওয়া থামাবি? ভাত খাবি না?’
একটা কদমা হাতে আর একটা মুখে পুরতে পুরতে জন ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বলে, ‘জিনিসটা বহুত প্যাঁচাল। মুখের ভেতর আটকে আটকে থাকে। ভালো কথা, আর কিছুদিন পরই আমাদের বড়দিন। তোরা সবাই আসবি। যে আসবে না, তার শাস্তি।’
শাস্তি কী হবে, আরশাদ জানায়, ‘সিনেপ্লেক্সে সবাইকে সিনেমা দেখাতে হবে।’
রাতের জন্য বড় প্ল্যান বানিয়ে রেখেছিল ইন্দ্র। এখন সে প্ল্যান বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাঝরাতে বন্ধুদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ। বড় ব্রিজ থেকে হাতে টানা নৌকা বেশ অনেকক্ষণ ধরে চলছে। একটু নেমে হাত-পা ঝাড়া দেওয়া দরকার। সে মোতাবেক নৌকা পারে থামে। জায়গাটা বেশ জঙ্গলামতো। একটু দূরে একটা নৌকা বাঁধা।
মাঝিকে ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল, ‘ঘাট তো অনেক দূরে, এখানে নৌকা বাঁধা কেন?’
চিন্তিত মাঝি বলল, ‘ব্যাপার ভালো ঠেকছে না।’
সবাইকে ইশারায় চুপ থাকতে বলে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে নৌকার দিকে যেতে থাকে ইন্দ্র। বন্ধুরা সব চেয়ে থাকে। জানে, এই ছেলেকে ঠেকানো যাবে না। নৌকার কাছাকাছি গিয়ে ইন্দ্র বুঝল, আশপাশে মানুষ আছে। আর বেশ কয়েকটা বস্তা দেখা যাচ্ছে। একজনকে বস্তার পাহারায় রেখে চারজন লোক আঁধারে মিলিয়ে গেল। এটুকু দেখে মাথায় এক ফন্দি নিয়ে নৌকার কাছে ফিরে এল ইন্দ্র।
মাঝি এলাকাটা চেনে। এখন থেকে আট-দশ মিনিটের হাঁটা পথে একটা বাজার আছে। সম্ভবত এরা বাজারে চুরি করেছে। জিনিসপত্র নিয়ে নৌকায় করে পালানোর মতলবে আছে।
করণীয় ঠিক করে ফেলল ইন্দ্ররা। হাতে সময় ১৫ মিনিটেরও কম। কেননা বাজারে যেতে-আসতে বাকি লোকগুলোর এর বেশি সময় লাগবে না।
পা টিপে টিপে ইন্দ্রের রেকি করার পথে সবাই এগুতে থাকে নিঃশব্দে। খুব কিছু কায়দা করতে হলো না। পাহারায় থাকা লোকটা ঘুমিয়ে পড়েছিল বোধহয়। পিছন থেকে ইন্দ্ররা দুই-তিনজন লাফ দিয়ে তার ওপর পড়তে ভয়-টয় পেয়ে সব একাকার করে দিয়েছে।
মুখ, হাত-পা ভালো করে কষে বেঁধে লোকটাকে মাটিতে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। মাঝিকে ফোন করে নিজেদের নৌকা আনিয়ে নেয় ইন্দ্র।
এবার আসল মজা।
টপাটপ সবাই নিজেদের নৌকায় উঠে পড়ে। থাকল চোর-ব্যাটা আর চুরি করা মাল। চোরবাহিনীর নৌকা নিজেদের নৌকার সঙ্গে লাগিয়ে নেয় ইন্দ্র। কয়েক মিনিটের মধ্যে দুটো নৌকা মাঝ নদীতে। এবার চোরদের নৌকা মুক্ত করে দেয় সে। যাক, কোথায় যাবে যাক।
চোর কাকাদের আজকের রাত মাটি। নৌকা ছাড়া মাল নেবে কেমনে? গ্রামের রাস্তায় এসব বস্তা দেখলে মানুষ আস্ত রাখবে না।
ইশতি বলে উঠল, ‘ধুর, কোনো অ্যাডভেঞ্চারই হলো না। চোরদের সঙ্গে আর একটু খেলা যেত। তা নয়, চোরদের নৌকা ভাসিয়ে দিলাম।’
‘ঠিক আছে, তুই বিশাল বীরপুরুষ। আরেক দিন আসবোনে আমরা’, ইন্দ্র বলে।
‘আমারে বাদ দিবি না কিন্তু’, ঘুমে-পাওয়া গলায় জন বলে। ইন্দ্রের বাড়ির খাওয়াটা তার যা-তা রকমের বেশি হয়েছে।
‘ঠিক আছে। ঠিক আছে। সবাই আসব। চোর কাকাদের না হয় আমি বলে রাখব। ওনারা যাতে সেদিন এই এলাকায় থাকে।’
ইন্দ্রের কথা শুনে সাদিক মাঝি হাসে। দূরে বড় ব্রিজের আলো দেখা যাচ্ছে। চালিয়ে যেতে হবে। রাত কম হয়নি। পোলাপানগুলোকে ঠিকঠাক পারে পৌঁছে দিতে হবে।
এখানে পড়ুন: সাবাতিনা, তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?