ক্যাম্পাস

শীতের এক চাঁদনী রাতে ক্যাম্পাস


  • মাসুমা হক প্রিয়াংকা   ঢাকা |
  • প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০০:০৪
শীতের এক চাঁদনী রাতে ক্যাম্পাস
ছবি: আল মামুন খান এমিল

বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো এমন একটা সময়, যখন বন্ধুত্ব, হাসি, আড্ডা আর উন্মাদনার অনেক অনেক মুহূর্ত হৃদয়ে অনপনেয় দাগ কাটে। ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে বসে আজ মনে পড়ছে এক রাত্রির কথা। শীতের সেই চাঁদনী রাতে আমরা কয় বন্ধু সারারাত আড্ডা দিয়েছিলাম ক্যাম্পাসের এখানে-সেখানে। ক্যাম্পাসের বাইরেও। জনা সাত-আটেক ছিলাম। মেয়ে ও ছেলে মিলিয়ে। 

তখন ক্লাসের চাপ একটু কম। ঠিক হলো একদিন কার্জন হলের পুকুর পাড়ে আড্ডা দেব আমরা। রাতে। যেই কথা সেই কাজ। সবার গায়ে চাদর। এক-দুইজনের হাতে গিটার। সায়েন্স ক্যান্টিন থেকে নুডুলস আর ছোলা-মুড়ি নিয়ে বসা হলো পুকুর পাড়ে। খেতে-খেতে আড্ডা।

পুকুরের পানিতে চাঁদের আলো; সঙ্গে মৃদু বাতাস। গিটারের টুংটাং। কেমন করে বলি তখন কেমন লাগছিল। সেই ভাষা নেই তো আমার।

রাত ৯টার দিকে কার্জন ছেড়ে টিএসসি। স্বপন মামার চা স্টল। আড্ডা জমল আরেক দফা।

অতঃপর মল চত্বর অভিমুখে দঙ্গল। মলে এসে এক বন্ধু গিটারে বাজিয়ে গান ধরে। বাকিরা কেউ সুরে কেউ সুরের বাইরেই গলা মেলায়। কী করা যাবে! মল চত্বর থেকে ধীরে-সুস্থে ভিসি চত্বর হয়ে ফুলার রোড ধরে হাঁটতে থাকি আমরা। ফুলার রোডে সোডিয়াম আলোর নিচে ছবি তোলা হলো। হাঁটা থামে শহীদ মিনারে। একবারে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ যাকে বলে।

শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বসে শুরু হয় স্মৃতিচারণ। পাশে দেখি এক সস্তার খেলনাওয়ালা। উঠে গিয়ে শজারুর মতো দেখতে কমলা রঙের খেলনা কিনি। নাড়াচাড়া করলে আলো জ্বলে। বাচ্চাদের জিনিস। আমার দেখাদেখি আরও কয়জন এটাসেটা কিনে নেয়। শহীদ বেদি থেকে এবার যাওয়া মেডিক্যাল। ওখানে মালাই চা খাওয়া হলো। কী যে স্বাদ সেই চায়ে!

গল্পে-গানে, তাল-বেতাল কথায় সময় বইতে থাকে। রাত প্রায় দেড়টা বাজে। এবার ক্যাম্পাস পেরিয়ে পৌঁছালাম নাজিরা বাজারে বোখারী রেস্টুরেন্টে। চলল কাচ্চি বিরিয়ানি; সঙ্গে চিকেন চাপ। দুর্দান্ত সেসব খাবার।

পুরান ঢাকায় পেট-পুজো শেষ করে টিএসসি ফিরে দেখি প্রায় চারটা বাজে। পেট পুরে খাওয়ার দরুন অনেকের চোখে ঘুম। তবু চালিয়ে যাই সবাই। পায়রা চত্বরে আবার চায়ের সাথে আড্ডা শুরু। আমি দু-একটা ভূতের গল্প শোনাতে সবার ঘুম উবে গেল। দুজন ভয়ে একবারে বেহাল। অন্যরা তাদের নিয়ে রীতিমতো মজা করা শুরু করে দিল।

আস্তে আস্তে কুয়াশার আড়াল থেকে রবি রশ্মি দেখা মিলতে শুরু করল। “ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠো রে”। এবার আমাদের উঠতে হয়। উঠেও পড়লাম। একটু পর যে যার হলের দিকে রওনা দিলাম। সেই রাত এখনো উদ্বেলিত করে আমায়। আহা! সে যে কী এক রাত ছিল আমাদের। 


ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

ঢাবিতে সোনাঝরা দিনগুলি

ঢাবিতে সোনাঝরা দিনগুলি

  • ঐশী কর্মকার|
  •  ০৭-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

আমাদের নন-স্টপ আড্ডার বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের নন-স্টপ আড্ডার বিশ্ববিদ্যালয়

  • চিররঞ্জন সরকার|
  •  ২৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

৪.৫

ফিরে দেখা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ফিরে দেখা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • মো. মিজানুর রহমান |
  •  ১৮-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

এইসব রঙিন দিন কিছুদিন পর স্মৃতি হয়ে যাবে

এইসব রঙিন দিন কিছুদিন পর স্মৃতি হয়ে যাবে

  • সুপ্তি রায় |
  •  ১৮-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

৪.৭

আড়াই দশক পরে উচ্চশিক্ষায় ফেরা

আড়াই দশক পরে উচ্চশিক্ষায় ফেরা

  • শাহানা বেগম|
  •  ১০-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

গণরুমের রাত

গণরুমের রাত

  • আলমগীর হোসেন|
  •  ০২-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: ক্যাম্পাস

৪.৫

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।