বিবিধ

নিকসেন: কিছু না করার গুরুত্ব!


  • ইশরাত জাহান  |
  • প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ২৩:০৯
 নিকসেন: কিছু না করার গুরুত্ব!
ছবি: আল মামুন খান এমিল

ডাচ ভাষায় নিকসেন (Niksen) অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু লক্ষ্যহীন সময় কাটানো, যেখানে থাকবে না কোনো কাজ শেষ করার চাপ। মানুষ শুধু নিজের মতো করে থাকবে কিছু সময়। এই সময়টিতে তার কোনো লক্ষ্য নেই; কিছু শেষ করার তাড়া নেই। নিকসেন নিয়ে টাইম ম্যাগাজিন, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি হেলথ ওয়েবসাইট এবং ইনসিয়াড (INSEAD)-এ প্রকাশিত বিভিন্ন লেখালেখি নিয়ে পড়ুন জীবনজয়ী প্রতিবেদন।

নিকসেন যেকোনো কিছুই হতে পারে—জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা, আকাশের মেঘ দেখা, বৃষ্টির শব্দ শোনা, গাছ-গাছালি দেখা, আবার এসব কিছু বাদ দিয়েও শুধু চুপচাপ বসে থাকা।

আজকের এই পৃথিবীতে আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই কাজ, পড়াশোনা, ফোন, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে মস্তিষ্কের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। বলতে গেলে ‘লাইফ ইন দ্য ফাস্ট লেন’ (Life in the Fast Lane)। এছাড়া বর্তমান যুগ এমন একটি যুগ, যেখানে মানুষ বিশ্রাম নেওয়ার সময়েও ব্যস্ত থাকে। কারণ, মানুষ বিশ্রামের সময়টুকুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায়। ফলে শরীরটা বিশ্রামে থাকলেও মন-মস্তিষ্ক বিশ্রামে থাকে না।

আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রতিটি মুহূর্ত ব্যস্ত থাকাকে মানুষ সাফল্যের সিঁড়ি মনে করে। তাই সবসময় ব্যস্ত থাকার একটি অদৃশ্য চাপ রয়েছে। যখন কেউ বলে, “আজ সারাদিন খুব ব্যস্ত ছিলাম”, তখন সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি বলে, “আজ কিছুক্ষণ বসে ছিলাম”, তাহলে সেটিকে সময় নষ্ট বলে ভাবা হয়। অথচ মানুষের মস্তিষ্কও বিশ্রাম চায়; মনেরও প্রয়োজন চাপহীন কিছু মুহূর্ত।

গবেষণায় প্রমাণিত যে, সৃজনশীলতার ওপর মানসিক বিশ্রামের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যেকোনো কঠিন সমস্যা নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমরা অনেক সময় মানসিক ক্লান্তি বোধ করি। একটুখানি বিরতি এই ক্লান্তি দূর করে দিতে পারে, কারণ মস্তিষ্ক তখন নিজ ভাণ্ডারে জমা থাকা তথ্যগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই অনেক শিল্পী, লেখক ও গবেষক এ ধরনের চর্চা করেন।

নিকসেন চর্চার বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। প্রতিদিন পাঁচ বা দশ মিনিট দিয়ে শুরু করা যায়। এই সময়ে ফোন, টেলিভিশন বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা ভালো। বই পড়া, গান শোনা বা অন্য কোনো কাজ না করে শুধুমাত্র মুহূর্তটিকে অনুভব করাই এর উদ্দেশ্য। যেহেতু মানুষ এখন সবসময় কিছু না কিছু করতে অভ্যস্ত, তাই শুরুতে কাজটি কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই নীরব সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে।

নিকসেন মানে কিন্তু দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়। এটি অলসতা বা দায়িত্বহীনতাও নয়। বরং আমাদের এই ব্যস্ত জীবনের মধ্যে মন ও মস্তিষ্কের জন্য ছোট ছোট বিরতি তৈরি করা। নোটিফিকেশন, মেসেজ আর নতুন নতুন তথ্যের ভিড়ে আমাদের মন সবসময় ছুটতে থাকে, আর মস্তিষ্ক শুধু নতুন নতুন তথ্য গ্রহণ করেই চলেছে। নিকসেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনটা শুধু প্রতি মুহূর্তে ছুটে চলা নয়; বরং আমাদের মন ও মস্তিষ্কের প্রতিদিন একটুখানি বিরতি প্রয়োজন।

আমাদের সুখী হওয়ার একটি উপায় হতে পারে নিকসেন। প্রতিদিন কিছু সময় বের করা নিজের জন্য, কোনো লক্ষ্য ছাড়া শুধু নিজেকে অনুভব করা—এমন একজন হিসেবে, যে ওই মুহূর্তে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন।

কখনো কখনো কিছু না করাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠতে পারে বৈকি! 


ক্যাটাগরি: বিবিধ

         

  রেটিং: ৩.৮

এই বিভাগের আরও পোস্ট

মাদক-নির্ভরতা: অন্তহীন এক চক্র থেকে মুক্ত হতে পেরেছি

মাদক-নির্ভরতা: অন্তহীন এক চক্র থেকে মুক্ত হতে পেরেছি

  • অপু চৌধুরী|
  •  ২৫-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিবিধ

হাইস্পিড জীবন

হাইস্পিড জীবন

  • স্মৃতি রানী বর্মণ|
  •  ১৯-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিবিধ

কেন কুতথ্যের বদলে ছড়াব সুতথ্য?

কেন কুতথ্যের বদলে ছড়াব সুতথ্য?

  • আহমেদ শারজিন শরীফ|
  •  ০৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিবিধ

৩.৮

সামাজিক পক্ষপাতের ফাঁদ কীভাবে এড়ানো যায়?

সামাজিক পক্ষপাতের ফাঁদ কীভাবে এড়ানো যায়?

  • সুমাইয়া রহমান তুলি|
  •  ২২-০৭-২০২৬
ক্যাটাগরি: বিবিধ

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।