নাই নেট: স্বেছায় ইন্টারনেট ছাড়া চব্বিশ ঘন্টা

নেটহীন দিন: আকাশের লালচে আভা মন ছুঁয়ে গেল


  • নাসরিন বেগম  ঢাকা |
  • প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০০:০৭
নেটহীন দিন: আকাশের লালচে আভা মন ছুঁয়ে গেল
ছবি: এআই

আমার বড় মেয়ে অনেক দিন ধরেই আমাকে অনুরোধ করছিল যেন আমি একটা দিন ইন্টারনেট ছাড়া কাটাই। অবশেষে মনস্থির করলাম। একটি সম্পূর্ণ দিন কাটাব ইন্টারনেট ছাড়াই। 

মে মাসের পাঁচ তারিখ, সোমবার। ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষ করে বারান্দার ফুলগাছগুলোয় পানি দিলাম। প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হলাম। প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটার পর বাসায় ফিরে সকালের নাশতা তৈরি করতে শুরু করলাম। এর মধ্যেই দুই মেয়ে ঘুম থেকে উঠে এল। ওদের নিয়ে একসাথে নাশতা সেরে বাজারে বের হলাম। হরেক রকম সবজি ও মাছ কিনে বাসায় ফিরে রান্নায় মন দিলাম। রান্না শেষ হওয়ার আগেই আমার গৃহকর্মী খালা চলে এলেন। ওনার সাহায্য নিয়ে বাসার বাকি কাজগুলোও সেরে ফেললাম।

এরপর গোসল ও নামাজ সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। এটুকু সময় আমার প্রতিদিনের ব্যস্ততায় এমনিতেই কেটে যায়, তাই ইন্টারনেটের অনুপস্থিতি তেমন অনুভব করিনি।

তবে বিকেলের দিকে একা বসে থাকতে থাকতে মনে হলো, একটু ইউটিউব বা ফেসবুক দেখি। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল, আজ তো ইন্টারনেট ছাড়া কাটানোর দিন!

ভাবলাম, সময়টা বড় মেয়ের সাথে কাটাই। তাই ওর ঘরে গিয়ে গল্প করলাম কিছুক্ষণ। আসরের নামাজ শেষে দুই মেয়েকে ডেকে নিয়ে ছাদে গেলাম। ছাদের বাতাসে বসে গোধূলির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। দূরে উড়ে যাওয়া পাখি আর আকাশের লালচে আভা মন ছুঁয়ে গেল।

নিচে নেমে এসে নামাজ পড়লাম, কিছুক্ষণ কোরআন শরিফ পাঠ করলাম। এর মধ্যে ছোট মেয়ে নাশতার আবদার করল। আমি দুই মেয়ের জন্য নাশতা বানালাম এবং একসাথে বসে খেয়ে নিলাম। এরপর মেয়েরা পড়াশোনায় বসলে আমি আবার একা হয়ে গেলাম। এই সময়গুলোতেই আসলে নেটে ঢোকার ইচ্ছা হয়। কিন্তু আজ তো নেটে ঢোকার ব্যাপারে নিজেই নিজেকে বারণ করেছি। তাই ভাবলাম, মেয়েদের জন্য একটু ভালোমন্দ রান্না করি। বিরিয়ানিই হোক না হয়!

রান্না চলছে। বিরিয়ানির ঘ্রাণে বড় মেয়ে দৌড়ে এসে উঁকি দিল রান্নাঘরে। মনে হয় বিরিয়ানির আনন্দে দুই বোন এদিন দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে ফেলল। ওরা খুব খুশি পছন্দের খাবার পেয়ে। সবাই মিলে রাতের খাবার শেষে ড্রয়িংরুমে বসে গল্প করলাম। এরপর নামাজ পড়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।

ইন্টারনেটবিহীন দিনটি একটু অন্য রকমই ছিল। সচরাচর আমি বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে ইন্টারনেটেই সময় পার করি। মেয়েরা সে সময় নিজেদের কাজকর্ম ও পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে। আমাকে তাই অবসরটা ইন্টারনেটেই কাটাতে হয়। তবে নেটবিহীন দিনটিতে মেয়েদের সাথে বেশি সময় কাটাতে পেরে আমার ভালোই লেগেছে। 


ক্যাটাগরি: নাই নেট

         

  রেটিং: ২.৯

এই বিভাগের আরও পোস্ট

বই পড়ে অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম

বই পড়ে অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম

  • ফারিহা আনজুম নোশিন|
  •  ০৫-০৯-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

ইন্টারনেট ছাড়া এক শান্তিপূর্ণ দিন

ইন্টারনেট ছাড়া এক শান্তিপূর্ণ দিন

  • আবু সায়েম |
  •  ২৫-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

আমি যেন এক নতুন জগতে পা রাখতে যাচ্ছি

আমি যেন এক নতুন জগতে পা রাখতে যাচ্ছি

  • পূজা প্রামানিক|
  •  ২৩-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

একদিন নেটবিহীন:  রান্না, ছবি আঁকা আর দূরদেশের স্ত্রী

একদিন নেটবিহীন: রান্না, ছবি আঁকা আর দূরদেশের স্ত্রী

  • রাফি আন্ নূর|
  •  ১০-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

 আষাঢ়ের এক নেটহীন দিন

আষাঢ়ের এক নেটহীন দিন

  • স্বর্না আক্তার লিজা|
  •  ০৪-০৮-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

পুরোপুরি উশুল হওয়া একটা দিন

পুরোপুরি উশুল হওয়া একটা দিন

  • সামিয়া ইফফাত|
  •  ২৮-০৭-২০২৬
ক্যাটাগরি: নাই নেট

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।