সামনে হ্যালোইন। আর হ্যালোইন মানেই পশ্চিমের দুনিয়ায় ক্যান্ডির ছড়াছড়ি।
ক্যান্ডি কর্ন পছন্দ হোক বা অপছন্দ, কিংবা শুধুই সাজানোর উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করুন, নামটি শুনলেই হ্যালোইনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু জানেন কি, হ্যালোইনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির অনেক আগে এই মিষ্টির পরিচয় ছিল ‘মুরগির খাবার’ হিসেবে! হিস্ট্রি ডট কম বলছে এমনটাই।
ক্যান্ডি কর্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শেষ দিকে। ধারণা করা হয়, ১৮৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রচলন শুরু হয়। সে সময় মিষ্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মোলায়েম ক্রিমের মতো মিশ্রণ দিয়ে কুমড়া, চেস্টনাট, শালগমসহ কৃষিপণ্যের আদলে বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করত। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেকই ছিল কৃষিনির্ভর। ফলে কৃষিপণ্যের আদলে তৈরি এসব মিষ্টি সারা বছরই কৃষিপ্রধান এলাকার শিশুদের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
এই ধারার মধ্যেই তৈরি হয় ক্যান্ডি কর্ন। এর বিশেষত্ব ছিল তিনটি রং হাতে স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা। প্রচলিত মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ার ওয়ান্ডারলে ক্যান্ডি কোম্পানির কর্মী জর্জ রেনিঙ্গার এই মিষ্টির উদ্ভাবক। ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চিনি ও কর্ন সিরাপ দিয়ে তৈরি তিন রঙের এই মিষ্টি প্রথম বাজারে আনে ওয়ান্ডারলে।
তবে ক্যান্ডি কর্নকে জনপ্রিয় করে তোলে গোয়েলিৎজ ক্যান্ডি কোম্পানি, যা বর্তমানে জেলি বেলি ক্যান্ডি কোম্পানি নামে পরিচিত। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি এর প্রস্তুতপ্রণালি গ্রহণ করে বাজারজাত শুরু করে। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘চিকেন ফিড’, অর্থাৎ মুরগির খাবার।
কেন এমন নাম দেওয়া হয়েছিল?
এর পেছনে ছিল ভুট্টা সম্পর্কে সে সময়কার আমেরিকানদের ধারণা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে অধিকাংশ আমেরিকান ভুট্টাকে মানুষের খাবার হিসেবে খুব একটা বিবেচনা করতেন না। বরং এটি ছিল শূকর ও মুরগির খাবার।
ক্যান্ডি: আ সেঞ্চুরি অব প্যানিক অ্যান্ড প্লেজার বইয়ের লেখক সামিরা কাওয়াশ দ্য আটলান্টিক-এ লিখেছেন, সে সময় ভুট্টার মিষ্টি জাতের সংকরায়ণ হয়নি। ভুট্টা ছিল মোটা দানার, সস্তা এবং স্বাদেও তেমন ভালো নয়। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে গমের সংকট দেখা দেওয়ার আগপর্যন্ত অধিকাংশ আমেরিকান ভুট্টার আটা, ভুট্টার গুঁড়া কিংবা ভুট্টার রুটিকে মানুষের গ্রহণযোগ্য খাবার হিসেবে বিবেচনা করতেন না।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও ক্যান্ডি কর্নের সঙ্গে মুরগির সম্পর্ক রয়ে যায়। ১৯২০-এর দশকে গোয়েলিৎজের ক্যান্ডি কর্নের প্যাকেটে মোরগের ছবি এবং ‘কিং অব দ্য ক্যান্ডি কর্ন ফিল্ডস’ বা ‘ক্যান্ডি কর্নের ক্ষেতের রাজা’ স্লোগান ব্যবহার করা হতো।
কীভাবে হ্যালোইনের মিষ্টি হয়ে উঠল ক্যান্ডি কর্ন?
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ক্যান্ডি কর্ন জনপ্রিয় ‘পেনি ক্যান্ডি’তে পরিণত হয়। অল্প টাকায় অনেকগুলো কেনা যেত বলে শিশুদের কাছে এসব মিষ্টির বেশ কদর ছিল। তখন এটি শুধু হ্যালোইনের জন্য নয়, বরং সারা বছর খাওয়ার মিষ্টি হিসেবেই পরিচিত ছিল। হ্যালোইনের পাশাপাশি থ্যাংকসগিভিং ও ইস্টারের আয়োজনেও ক্যান্ডি কর্ন দেখা যেত।
তবে ১৯৫০-এর দশক থেকে হ্যালোইনের সঙ্গে মিষ্টির সম্পর্ক ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। লেখক সামিরা কাওয়াশের মতে, এই সময় থেকেই ক্যান্ডি কর্ন হ্যালোইনের অন্যতম প্রধান মিষ্টি হয়ে ওঠে। অক্টোবরে ক্যান্ডি কর্নের বিজ্ঞাপনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
আজও সারা বছর ক্যান্ডি কর্ন পাওয়া যায়। ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর এই মিষ্টি ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি বিক্রি হয়।
অক্টোবর মাসে এর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। ৩০ অক্টোবর পালিত হয় ন্যাশনাল ক্যান্ডি কর্ন ডে। একসময় ‘মুরগির খাবার’ নামে পরিচিত এই মিষ্টির ইতিহাস স্মরণ করতেই দিনটি পালন করা হয়।
এভাবেই কৃষিপণ্যের আদলে তৈরি একটি মিষ্টি, যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মুরগির খাবারের পরিচয়, সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে হ্যালোইনের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতীক।