জীবনজয়ীর ‘কথা বলি’ বিভাগের নিমন্ত্রণে ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে অবস্থিত আমানা ফুড ভিলেজে এক দুপুরে আলাপে বসেছিলেন মাছুমা হক প্রিয়াংকা (২৮) ও শাওন আখতার সৌরভ (২৮)। প্রিয়াংকা গবেষক। সৌরভ ফিনল্যান্ডের টাম্পেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে ফিরেছেন সম্প্রতি।
সৌরভকে আড্ডায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রিয়াংকা
প্রথমে শাওন আখতার সৌরভকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
ভদ্র একজন মানুষ বসে আছেন।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
হাই বললাম একে অন্যকে; নিজেদের নাম সমেত। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও সেশন দিয়ে আলাপ এগিয়ে যায়।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
বিশ্ববিদ্যালয় ও সেশন মিলে যাওয়ায় মিউচুয়াল কিছু বন্ধু ছিল তাদের নিয়ে গল্প হলো। আমরা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। সৌরভ টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগে। আমি স্বাস্থ্য অর্থনীতি। বাইরে পড়তে যাওয়ার বিষয়ও খানিকটা আলোচনা হলো। খুব শীঘ্রই সৌরভ বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তাই তার সম্পর্ক ও বাগদত্তা নিয়ে কথা হলো। ইউরোপে পড়তে যাওয়ার পর কীভাবে লং ডিস্টেন্স রিলেশন কন্টিনিউ করেছে তা নিয়েও গল্প হয়। পরিবার, আত্মীয়স্বজন নিয়ে আলাপ হলো বেশ। তার হোম টাউন নিয়েও গল্প হলো, সেখানকার মানুষ নিয়েও আমরা অনেক কথা বললাম।
আলাপের বিষয়গুলোতে আপনাদের মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
বেশির ভাগই মিল ছিল। মজার বিষয় আইডিওলজি মিলে গিয়েছিল। আলাপের এক সময় মনে হচ্ছিল আমরা অনেক আগে থেকেই একে অন্যের সাথে এভাবে আড্ডা দিয়ে অভ্যস্ত।
সৌরভের কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
ফ্রেন্ডলি, সম্পর্কের বিষয়ে যত্নবান এবং সর্বোপরি তার আচরণ মনোমুগ্ধকর।
কোনো কিছুতে বিব্রত হয়েছিলেন?
মোটেও না। তিনি আপাদমস্তক একজন ভদ্র ও বন্ধুসুলভ মানুষ। বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
সৌরভের পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আলাপ হয়েছে?
জি, হয়েছে। মা-বোনের অনেক গল্প করেছেন। বোনের বিশ্ববিদ্যালয়, মায়ের কর্মক্ষেত্রও ছিল আমাদের গল্পের মধ্যে।
আপনার বন্ধুদের সাথে আলাপ করাবেন সৌরভকে?
জি, করাব। তাকে আমি আমাদের আড্ডায় যোগদানের অন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
সৌরভের মধ্যে আশাবাদ নাকি উল্টোটা বেশি দেখলেন?
আশাবাদ। জীবনের সুন্দর দিকগুলো সে সুন্দরভাবে আলোচনা করে।
মোবাইল নম্বর বিনিময় হয়েছে?
জি হয়েছে।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
আমাদের আলাপ পর্ব শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে ফেসবুকে যুক্ত হই।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
আমরা খুব শীঘ্রই দেখা করার আশা করছি। এছাড়াও তার হোম টাউনে আমাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এই আলাপ পর্বটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
কমপক্ষে নয়।
চাইলে আরো কিছু বলুন।
আর তেমন কিছু বলার নেই। খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা এটাই বলব। খাবার খুব স্বাদের ছিল।
ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষায় আছে প্রিয়াংকা
প্রথমে মাছুমা হক প্রিয়াংকাকে দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?
শুরুতে তো বুঝিনি যে যার সাথে আগে ফোনে কথা হয়েছে, এই সে। এটা একটু সারপ্রাইজিং ছিল। তবে ভালো লেগেছে বিষয়টা।
কী দিয়ে আলাপ শুরু হয়?
প্রিয়াঙ্কার সাথে আগেই কথা হয়েছিল, কারণ ‘কথা বলি’ নিয়ে সেই আমাকে সব বুঝিয়ে বলেছিল জীবনজয়ী টিমের পক্ষ থেকে। এরপর সে নিজের পরিচয় দিলে খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। উনি একটু দেরিতে পৌঁছার কারণে আমিও খাবার নিতে অপেক্ষা করেছিলাম। তাই প্রথমেই খাওয়াদাওয়া শুরুর ব্যাপারে কথা বলেছিলাম।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন আপনারা?
প্রথমে নিজের ব্যাপারে বললাম। আগের দিন ফোনালাপের কারণে প্রিয়াংকা কিছু জানত আমার সম্পর্কে। আলাপে বসে নিজের পরিবার, পড়াশোনা, শখসহ মোটামুটি ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করা যায় এমন তথ্য শেয়ার করলাম নিশ্চিন্তে। তার ব্যাপারেও সেগুলো জানার পর, ব্যাচমেট হওয়ায় বন্ধুদের কথা এলো যাদের আমরা দুজনই চিনি। খুব ভালো আইসব্রেকিং ছিল এই অংশ। এরপর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা, চাকরির আবেদন সংক্রান্ত আলাপ হয়েছে।
আলাপের বিষয়গুলোতে আপনাদের মতের মিল বা অমিল কেমন ছিল?
পূর্বেই জানানো হয়েছিল যে ‘কথা বলি’ সেশনে রাজনৈতিক আলোচনা না করাই উত্তম। তবে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি আলোচনায় রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পুরো আলোচনাই হয়েছে নিজেদের চিন্তার পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি জানার উদ্দেশ্যে। মত থাকলেই মিল-অমিল নিয়ে চিন্তা করতে হবে এমনটা মাথায় আসেনি।
প্রিয়াঙ্কার কোন দিকগুলো ভালো লেগেছে?
প্রিয়াঙ্কা অসাধারণ সাহসী এবং দৃঢ়চেতা একজন মানুষ। তার রসবোধ বেশ সহজ। পত্রিকায় লেখালেখি করার কারণে শব্দচয়নে খুব একটা সতর্ক না থেকেও চমৎকার কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে।
কোনো কিছুতে বিব্রত হয়েছিলেন?
প্রিয়াঙ্কার পরিচয় পেয়েই বিব্রত হয়েছিলাম, কারণ সম্পূর্ণ অপরিচিত কারও সাথে দেখা করার কথা থাকলেও ওপাশের মানুষটা আমার ব্যাপারে কিছুটা জানেন আগে থেকেই।
প্রিয়াঙ্কার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আলাপ হয়েছে?
তার পরিবার নিয়ে কথা হয়েছে। আর ওর অনেক বন্ধুকেই দেখলাম আমি চিনি, আবার আমার অনেক বন্ধুকে ও চেনে।
আপনার বন্ধুদের আলাপ করাবেন প্রিয়াঙ্কার সাথে?
আমাদের বেশ কিছু বন্ধুকে আমরা দুজনই চিনি। আর আমার বন্ধুদের অবশ্যই পরিচয় করাব সেরকম সুযোগ এলে।
মোবাইল নম্বর বিনিময় হয়েছে?
আগের দিনেই প্রিয়াঙ্কা আমাকে কল দিয়ে সব বুঝিয়ে বলায় তার মোবাইল নম্বর আগেই সেভ করা ছিল।
ফেসবুকে পরস্পর যুক্ত হয়েছেন?
নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দুজন দুজনকে ফেসবুকে যুক্ত করেছি।
আপনাদের আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
আড্ডা দিয়ে বেশ ভালো লাগায় আবারও দেখা হতে পারে এমন ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।
এই আলাপ পর্বটিকে ১০ নম্বরের মধ্যে আপনি কত দেবেন?
সম্পূর্ণ কথোপকথনকে ৯ দেব।
চাইলে আরো কিছু বলুন।
প্রিয়াঙ্কা প্রচণ্ড পরিশ্রমী এবং আশাবাদী একজন মানুষ। উনি স্বপ্ন দেখেন একটা সুন্দর বাংলাদেশের, এবং আরও ভালো সময়ের জন্য উনি অপেক্ষমাণ। এরকম একজনের সাথে পরিচিত হয়ে আসলেই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ জীবনজয়ীকে।