কেনিয়ার ওয়াঙ্গারি মাথাই (১৯৪০-২০১১) সারা বিশ্বে তার পরিবেশ আন্দোলন ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য পরিচিত। মাথাই গ্রিন বেল্ট আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করা। তিনি ৩০ মিলিয়ন গাছ লাগিয়েছেন। এর মাধ্যমে নয় লাখ কেনিয়ান নারী উপকৃত হয়েছেন। তার অনুপ্রেরণায় জাতিসংঘ সারা বিশ্বে ১১ বিলিয়নেরও বেশি গাছ লাগিয়েছে। তিনি মানবাধিকার, নারী অধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। মাথাই জমি দখল ও বনভূমি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। এজন্য তাকে অনেকবার অপমান, হয়রানি, হুমকি, শারীরিক নির্যাতন এবং গ্রেপ্তার সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি কখনো থেমে যাননি। পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার প্রথম নারী হিসেবে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মাথাই ছিলেন নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু চিকিৎসা বিভাগের প্রথম নারী অধ্যাপক। তিনি বলেছিলেন, "গরিব মানুষ শেষ গাছটি কেটে শেষ খাবার রান্না করবে। পরিবেশ যত নষ্ট হবে, মানুষ ততই গরিব হবে।" তিনি আরও বলেছিলেন, "যে প্রজন্ম পরিবেশ ধ্বংস করছে, তারা নিজেরা ভুগছে না, ভুগছে পরের প্রজন্ম। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।"
ওয়াঙ্গারি মাথাইর স্বামী তাকে ‘অতিরিক্ত জেদি’ বলে ডিভোর্স দেন। আদালতে রায়ের পর বিচারককে ‘অযোগ্য এবং দুর্নীতিপরায়ণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এজন্য আদালত তাকে ছয় মাসের জেল দেয়।
মাথাই প্রথম আফ্রিকান নারী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ২০০৪ সালে। ২০০২ সালে তিনি কেনিয়ার পার্লামেন্টে ৯৮% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তিনি 'আনবোড : এ মেমোয়ার'সহ চারটি বই লিখেছেন। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ডকুমেন্টারি ‘টেকিং রুট : দ্য ভিশন অব ওয়াঙ্গারি মাথাই’।
২০১১ সালে ক্যানসারে মারা যাওয়ার আগে মাথাই একটি অনুরোধ করেন—তাকে যেন কাঠের কফিনে দাফন না করা হয়। এভাবেই তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকার ধরে রাখেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, একা একজন মানুষও বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।