পেট বাঁচানো : ছেলেদের হল জীবনের রান্নাবান্না


  • সজীব কুমার দে  ঢাকা, বাংলাদেশ |
  • প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৬
রসিঘর
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

দেহ ভালো রাখতে হলে সুষম খাবার অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাস, পরীক্ষা, টিউশনের ব্যস্ততা আর নিয়মবিহীন সময়সূচির ভিড়ে এই নিয়ম মানা যেন এক কঠিন সাধনা। অনেক বন্ধুই তো ইতোমধ্যেই ব্যঙ্গ করে বলে, “হলের ক্যান্টিনে বছরে যা খেলাম, তার প্রভাব কয়েক বছর পর বুঝতে পারবো।শরীরকে একটু সচল সুস্থ রাখতে চাইলে, রান্না করে খাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

এই ভাবনা থেকেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রুমের বন্ধু জুনিয়রেরা একসাথে মিলে আমরা শুরু করি আমাদের ব্যাচেলর রান্নাবান্না। একঘেয়ে ক্যান্টিনের খাবারের থেকে বাঁচার আশা নিয়েই এই যাত্রা শুরু। প্রতিদিন একই খাবার খেতে কারও ভালো লাগে না। দিনশেষে মনে হয়, পড়াশোনার চাপের মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাটাই যেন মূল লক্ষ্য


২০২৪ এর ডিসেম্বরের সেই শীতের সন্ধ্যায় যে রান্না শুরু, তা আজও চলছে সমানতালে। সত্যি বলতে, নিজের হাতে রান্না করা খাবারের স্বাদে যে তৃপ্তি, তার খোঁজ ক্যান্টিনের খাবারে কোনোমতেই মেলে না। তবে হলজীবনে রান্নাবান্নার এই কাজ সবার জন্য নয়। চাই দুএকজন অতি উৎসাহী মানুষ, যারা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য রান্না করতে ভালোবাসে। রান্না কারও কাছে শিল্প, আবার কারও কাছে বিরক্তির বিষয়। আবার কেউ ভালোবাসে বাজার করতে, কেউ বা নিঃশব্দে ধুয়ে দেয় থালাবাসন। এভাবেই গড়ে ওঠে সবার আন্তরিকতায় একটি সহানুভূতির রান্নাঘর; হলের চার দেয়ালের মাঝে এক ছোট্ট পরিবার।


বেশির ক্ষেত্রে সময়ের অভাবে হলের ছেলেরা রান্না করতে আগ্রহী হয় না। কিন্তু তাদের অনেকের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে রান্নাবান্নার দুর্দান্ত প্রতিভা! যেমন, আমার বন্ধু সমাজবিজ্ঞান বিভাগের লিংকন; তার গুণাবলির সত্যিই অনেক প্রশংসা করি। সে পড়াশোনায় যেমন ডেডিকেটেড তেমনি রান্নাতেও অনেক ভালো। রান্না নিয়ে আমাদের যত আগ্রহ, যত ভালোবাসা, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুই যেন সে! যখন যে জিনিসটা সে করে সেটা মন দিয়ে করে। তাই লিখতে গিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে চলছে না। সে হচ্ছে আমাদের ৪৩০ নাম্বার রুমের রান্নাঘরের নয়নমণি! তাঁকে ছাড়া রান্না করে খাওয়ার উৎসাহ পাওয়া যায় না। যার হাত ছাড়া রান্না করে খাওয়ার আনন্দটাই যেন অপূর্ণ!


রান্নার কথা লিখতে গিয়ে গত থার্টি ফার্স্টের সেই বিশেষ দিনটির কথা মনে পড়ছে। সেদিন আমরা করেছিলাম এক বড় আয়োজন! থার্টি ফার্স্ট নাইট বলে কথা! পুরাতনকে বিদায় করে ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগতম জানানোর রাত, রান্না না করে কি পারা যায়! জগন্নাথ হলে থার্টি ফার্স্ট নাইট মানেই জাঁকজমকপূর্ণ আনন্দের একটি বিশেষ রাত।  এইদিনে সবারই চেষ্টা থাকে বিশেষ একট রান্নাবান্না করার। কথায় আছে, বাঙালির মনের দরজা খোলে পেটের রাস্তা দিয়ে। তৃপ্তি করে উদরপূর্তি হলেই না তবে অনেক আনন্দ উদযাপনের মাধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া যায়!

তো সেদিন হাতে সময় রেখে চলে গেলাম পলাশীতে, রান্নার বাজার করার উদ্দেশ্যে। সঙ্গে বন্ধু ইমরান। সেদিনের রাতের পলাশী বাজারও ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। সবার মধ্যে যেন একটা উচ্ছ্বাস দেখতে পেলাম। বাজারে গিয়ে অনেক বন্ধুর সাথেও দেখা হলো। তাঁরাও আমাদের মত বাজার করতে এসেছে। মাছ, মাংস, ফুলকপি, টমেটোসহ বেশ কিছু রসদ কিনে হলে ফিরে এলাম। আর, আমাদের প্রধান শেফ যথারীতি লিংকন। যথাসময়ে অপূর্ব স্বাদের কয়েকপদের রান্না লিংকনের নেতৃত্বে তৈরি হয়ে গেলো। কথায় বলে, ঘ্রাণেই অর্ধ ভোজন! আহা বন্ধু লিংকন, সেজন্য তোমায় হাজার সালাম। 


খাবারের সুবাসে আর তর সইছিলো না! সবারই পেটের মধ্যেই তখন ঝড় বইছেরান্না শেষ হলো কি সবগুলো মিলে হৈচৈ করতে করতে খাবারদাবারসহ চলে গেলাম আমাদের জগন্নাথ হলের বিখ্যাত ছাদে! শুরু হলো খাওয়া-দাওয়াও পর্ব। সেখানে শুধু আমরাই নই হলের ছেলেদের আরও কত দলের ভোজনোৎসব চলছিলো! সবার কথা গল্পে গমগমে একটা উৎসব হয়ে উঠতে দেরি হলো না। ছাদে যাবার সময় গিটারও সাথে নিয়েছিলাম। একই সাথে হৈ-হল্লা, গান-বাজনা! বলতেই হবে মুখরোচক খাবারদাবারের বদৌলতে থার্টিফার্স্টটা জমেছিল দারুন!


ক্যাটাগরি: রসিঘর

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

অসাধারণ সাধারণেরা

রবিনহুড বলে কেউ কি ছিলো কোনোকালে?

  • সায়মা কবির বিন্তি|
  •  ৩০-০৪-২০২৬
ক্যাটাগরি: অসাধারণ সাধারণেরা

আমরা

আমাদের সম্পর্কে

  • জীবনজয়ী ডেস্ক |
  •  ৩০-০৪-২০২৬
ক্যাটাগরি: আমরা

অসাধারণ সাধারণেরা

বৃক্ষমাতা ওয়াঙ্গারি মাথাই

  • মোঃ কামরুল হাসান |
  •  ৩০-০৪-২০২৬
ক্যাটাগরি: অসাধারণ সাধারণেরা

অসাধারণ সাধারণেরা

জোসে মুজিকা : এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ দর্শন

  • এহতাছুন আফরিন ইভা |
  •  ৩০-০৪-২০২৬
ক্যাটাগরি: অসাধারণ সাধারণেরা

সাময়িকী

বব মার্লের নাইন মাইল গ্রাম

  • সজীব কুমার মন্ডল|
  •  ৩০-০৪-২০২৬
ক্যাটাগরি: সাময়িকী