সেদিন ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ। আপন মনে হাঁটছিলাম শহীদ মিনারের ওদিকটায়। হঠাৎ দেখি একটা মেয়ে ফুল ছিঁড়ছে। কী মনে করে যেন মেয়েটার সাথে কথা বললাম।
– এই মেয়ে দাঁড়াও। ফুল ছিঁড়ছ কেন? নাম কী তোমার? কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ো?
– ভাইয়া, আমি জুঁই। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। ফুলটা অনেক সুন্দর। খুব ভালো লেগেছে। তাই নিতে চাই।
এ কী! এ যে আমার বিভাগের!
– না, ফুল ছেঁড়া যাবে না। এটা অন্যায়।
– ফুল ছেঁড়া অন্যায় কেন হবে ভাই?
– হ্যাঁ, ফুল ছেঁড়া চরম অন্যায়। ফুল ছিঁড়লে ফুলের অকাল মৃত্যু ঘটে। সে তার অস্তিত্ব হারায়। ফুল আর কখনো ছিঁড়বা না প্লিজ।
– ভাই, ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। না ছিঁড়লে তার সৌন্দর্য উপভোগ করব কীভাবে?
– না ছিঁড়েও তার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সেটাই করা ভালো।
– না ছিঁড়লেও কয়েক দিন পরে ফুল ঝরে যাবে। তাহলে ছিঁড়ে একটু আনন্দ নেওয়ায় দোষ কোথায় ভাই?
– ছিঁড়ে ফুলের জীবনচক্রের অবসান ঘটানো আর প্রকৃতির নিয়মে ঝরে গিয়ে জীবনচক্রের অবসান হওয়া এক বিষয় নয়। মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবে। কিন্তু তা করতে গিয়ে প্রকৃতির সাথে যথেচ্ছ আচরণ করবে না। আর ফুল গাছে থাকলেও সুবাস নেওয়া যায়, সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
জুঁই তবু বলে চলে।
– দশটা ফুলের একটা ছিঁড়লে প্রকৃতির সৌন্দর্য কমে না।
– কমে। এক-দশমাংশ সৌন্দর্য কমে ।
– ফুলের জন্ম মেয়েদের খোঁপায় বসে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে। এটা ফুলের দ্বিতীয় উপযুক্ত স্থান।
– এভাবে ফুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। এর কোনো মানে হয় না।
– আমি এতকিছু বুঝি না। আমি একটা ফুল ছিঁড়ব।
– তুমি দেখি একজন স্বৈরাচার।
– আপনার যা মনে হয়। আমি একটা ফুল তুলে সামান্য আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
– ফুল ছিঁড়ে অন্যায় করেছে। এর প্রায়শ্চিত্ত করতে তোমার হয়ে আমি ক্যাম্পাসে একটা ফুল গাছ লাগাব। তুমি আর কখনো এটা করবা না প্লিজ।
– ভাই কোথায় ফুল গাছ লাগাবেন আমাকে জানাবেন?
– কেন?
– ফুল ফুটলে আমি ছিঁড়ে নিয়ে আসব। আপনি তাহলে আরেকটা ফুল গাছ লাগাবেন।
– না, তা হচ্ছে না। তোমাকে জানাবই না। ধন্যবাদ। ভালো থেকো।
– এতক্ষণ কথা বলছি। আপনার পরিচয় তো জানা হলো না!
– অজানাই থাক।
– প্লিজ বলেন। না হলে আবার ফুল ছিঁড়ব।
– আমি মাকাল ফুল। ভালো থেকো। ফুল ছিঁড়বা না।