আমি হেসে ফেললাম। সে আমার হাসির দিকে তাকিয়ে রইল, যেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেখছে। হিমুর তো গন্তব্য নেই। আমি মনে মনে ভাবছিলাম আজিজ মার্কেটে গিয়ে ঢুকি। অথবা রিকশা নিয়ে হলে চলে যাই। হিমুকে কথাটা বলব মনে করে ঘাড় ঘুরালাম।
কোথায় হিমু? নেই তো নেই।
বড় স্ক্রিনের আলো তখন নিভে গেছে। জার্সি গায়ে পতাকা হাতে একদল সমর্থক একটানা বাজিয়ে যাচ্ছে ভুভুজেলা। কেউবা নিচ্ছে আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি। দৃশ্যটি দেখে মনে হতে পারে এটি রিও ডিজেনেরিও কিংবা বুয়েরোস আইরেসের রাস্তা। কিন্তু বাস্তবে এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
বিটিএসের অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠার কারণ তাদের গান। তারা শুধু বিনোদন দিতে চায়নি, বরং তরুণদের বাস্তব জীবনের গল্প বলতে চেয়েছে। তাদের গানে উঠে এসেছে পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মপরিচয়ের সংকট, ব্যর্থতার ভয় এবং নিজেকে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা।
সারা দিন বেশ ভালো কাটলেও সন্ধ্যায় রুমে ফিরে মনটা বেশ আনচান করছিল। সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ ফোন দেখার অভ্যাস রয়েছে। বাসা থেকে ভিডিও কল দেয়। সবাইকে দেখি। কথা বলি। আজ আর সেসব হচ্ছে না। অগত্যা কোর্সের একটা বই নিয়ে পড়তে বসলাম। ঘণ্টা দুয়েক পড়লাম। বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়েছি বলা যায়।
বেদে মেয়েরা গায়ে পড়ে কথা বলে না। আমি যেচে কথা বলতে যাই। খুব একটা সাড়া পাই না। একটা কথা জিজ্ঞাসা করলে একটাই উত্তর দেয়। একজনের সাথে একটু একটু কথা হয়। তার নতুন বিয়ে। সেজন্য সে নৌকায় থাকে। তাদের কাপড় পরা অন্য রকম। শরীর ঢেকে যায় কিন্তু দেহের গঠনটা সুন্দর করে ফুটে ওঠে। মেয়েটা দেবী দুর্গার মতো।